বাংলাদেশে ব্যবসা

বাংলাদেশে ব্যবসা

বিদেশি কোম্পানি ও বিনিয়োগকারীদের জন্য পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা

 

মো. জয়নাল আব্দীন
ব্যবসা পরামর্শক | উদ্যোক্তা | আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ
প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট বাংলাদেশ (টিঅ্যান্ডআইবি)
মহাসচিব, ব্রাজিল বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিবিসিসিআই)

 

বাংলাদেশ একটি প্রধানত কৃষিনির্ভর অর্থনীতি থেকে ক্রমশ বহুমুখী উৎপাদন, বাণিজ্য, সেবা এবং রপ্তানিমুখী ব্যবসায়িক গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। বিশাল অভ্যন্তরীণ ভোক্তা বাজার, সুপ্রতিষ্ঠিত উৎপাদন খাত, প্রতিযোগিতামূলক মানবসম্পদ এবং দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজারে প্রবেশের কৌশলগত অবস্থানের কারণে নতুন বাজার, উৎপাদনকেন্দ্র, পণ্য সংগ্রহের গন্তব্য, পরিবেশনা নেটওয়ার্ক এবং বিনিয়োগ অংশীদার খুঁজছেন এমন বিদেশি কোম্পানিগুলোর জন্য বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য সুযোগ রয়েছে।

 

তবে একটি আন্তর্জাতিক কোম্পানির জন্য বাংলাদেশে সফলভাবে ব্যবসা শুরু করার অর্থ শুধু আকর্ষণীয় পণ্য বা বিনিয়োগের সুযোগ চিহ্নিত করা নয়। বিদেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে বাজারের চাহিদা, ব্যবসায়িক সংস্কৃতি, কোম্পানি গঠন, বিনিয়োগসংক্রান্ত বিধিবিধান, করব্যবস্থা, ব্যাংকিং, আমদানি প্রক্রিয়া, পরিবেশনা ব্যবস্থা, লাইসেন্স, স্থানীয় অংশীদার, ব্যবসায়িক যাচাই এবং সরকারি অনুমোদন সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখতে হবে।

 

এই পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকায় বাংলাদেশে কীভাবে ব্যবসা করতে হয়, বাজারে প্রবেশের আগে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কোন কোন বিষয় বিবেচনা করা উচিত এবং Trade & Investment Bangladesh (T&IB)-এর মতো পেশাদার ব্যবসায়িক সহায়তা প্রতিষ্ঠান কীভাবে বিদেশি কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে ব্যবসা প্রতিষ্ঠা, প্রচার ও সম্প্রসারণে সহায়তা করতে পারে তা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে।

 

বিদেশি কোম্পানিগুলোর কেন বাংলাদেশকে বিবেচনা করা উচিত?

বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদীয়মান বাজার। বৃহৎ অভ্যন্তরীণ বাজার, বিপুল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী, রপ্তানিমুখী উৎপাদন সক্ষমতা এবং দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যবর্তী ভৌগোলিক অবস্থান দেশটির বাণিজ্যিক গুরুত্ব বাড়িয়েছে। দেশটিতে তৈরি পোশাক, বস্ত্র, ওষুধ, চামড়া ও পাদুকা, পাট ও পাটজাত পণ্য, সিরামিক, কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য, হালকা প্রকৌশল এবং আরও বেশ কিছু উৎপাদন খাত আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা অর্জন করেছে।

 

একই সঙ্গে বাংলাদেশ শিল্পের কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি, তুলা, রাসায়নিক পদার্থ, খাদ্যপণ্য, পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, প্রযুক্তি এবং ভোগ্যপণ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ আমদানি বাজার। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা BIDA-এর তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ খাতে শতভাগ বিদেশি মালিকানা অনুমোদিত, যদিও কিছু খাতে বিধিনিষেধ বা বিশেষ শর্ত প্রযোজ্য।

 

অতএব, বাংলাদেশকে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা যায়: বিনিয়োগের গন্তব্য, উৎপাদনকেন্দ্র, আমদানি বাজার, রপ্তানির জন্য পণ্য সংগ্রহের উৎস, পরিবেশনা বাজার অথবা যৌথ বিনিয়োগের স্থান হিসেবে।

 

কোন প্রবেশ কৌশলটি সবচেয়ে উপযুক্ত হবে, তা নির্ভর করবে বিদেশি কোম্পানির পণ্য, শিল্পখাত, মূলধন বিনিয়োগের পরিকল্পনা, লক্ষ্য গ্রাহক এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যের ওপর।

 

১. বিনিয়োগের আগে বাংলাদেশের বাজার বুঝুন

নতুন কোনো দেশে প্রবেশের সময় বিদেশি কোম্পানিগুলোর অন্যতম বড় ভুল হলো পর্যাপ্ত বাজার গবেষণা ছাড়াই অফিস স্থাপন অথবা পরিবেশক নিয়োগ করা। প্রথম পদক্ষেপ হওয়া উচিত একটি সুসংগঠিত বাংলাদেশ বাজারে প্রবেশবিষয়ক সমীক্ষা পরিচালনা করা। বিদেশি কোম্পানিগুলোর যেসব বিষয় যাচাই করা উচিত:

  • বাজারের আকার এবং সম্ভাব্য চাহিদা;
  • গ্রাহকের শ্রেণিবিন্যাস;
  • বিদ্যমান প্রতিযোগী;
  • স্থানীয় ও আমদানিকৃত প্রতিযোগী পণ্য;
  • বাজারমূল্য;
  • আমদানি শুল্ক ও কর;
  • পরিবেশনা ব্যবস্থা;
  • ডিলার ও পরিবেশকের মুনাফার হার;
  • নিয়ন্ত্রক শর্ত;
  • পণ্য নিবন্ধনের প্রয়োজনীয়তা;
  • সরকারি ক্রয়ের সুযোগ;
  • সম্ভাব্য স্থানীয় অংশীদার;
  • পরিবহন ও গুদামজাতকরণের প্রয়োজনীয়তা;
  • অর্থ পরিশোধের প্রচলিত পদ্ধতি;
  • বৈদেশিক মুদ্রাসংক্রান্ত বিষয়;
  • সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক সমিতি; এবং
  • দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা।

 

উদাহরণস্বরূপ, কোনো বিদেশি কোম্পানি যদি বাংলাদেশে শিল্পকারখানার যন্ত্রপাতি বিক্রি করতে চায়, তাহলে শুধু দেশে মোট কতটি কারখানা রয়েছে তা জানলেই হবে না। বরং কোন কারখানাগুলো ওই ধরনের যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে, বর্তমানে কোন ব্র্যান্ড ব্যবহার করছে, তাদের ক্রয়চক্র কেমন, ক্রয় সিদ্ধান্ত কে নেয়, প্রযুক্তিগত চাহিদা কী, অর্থায়নের পদ্ধতি কেমন এবং বিক্রয়োত্তর সেবার প্রত্যাশা কী এসবও জানতে হবে।

 

এক্ষেত্রে পেশাদার বাণিজ্যিক যথাযথ যাচাই এবং বাজার গবেষণা ব্যয়বহুল বাজার-প্রবেশজনিত ভুল এড়াতে সহায়তা করতে পারে।

 

T&IB কীভাবে সহায়তা করতে পারে?

Trade & Investment Bangladesh (T&IB) বিদেশি কোম্পানিকে বাজার গবেষণা, বাজারে প্রবেশ কৌশল, প্রতিযোগী বিশ্লেষণ, সম্ভাব্য গ্রাহক চিহ্নিতকরণ, আমদানিকারক ও পরিবেশক অনুসন্ধান, ব্যবসায়িক অংশীদার অনুসন্ধান এবং বাণিজ্যিক যথাযথ যাচাইয়ে সহায়তা করতে পারে। শুধু অনলাইনে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাজারে প্রবেশ না করে একটি বিদেশি কোম্পানি উল্লেখযোগ্য অর্থ ও সম্পদ বিনিয়োগের আগে বাস্তবভিত্তিক স্থানীয় বাজার সম্পর্কে ধারণা নিতে পারে।

 

২. সঠিক বাজার-প্রবেশ কৌশল নির্বাচন করুন

সব বিদেশি কোম্পানির জন্য একই ধরনের ব্যবসায়িক কাঠামো উপযুক্ত নয়।

একটি বিদেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে নিম্নোক্ত পদ্ধতিতে প্রবেশ করতে পারে:

১. বাংলাদেশি আমদানিকারকের কাছে সরাসরি রপ্তানি;
২. আমদানিকারক নিয়োগ;
৩. ডিলার বা পরিবেশক নিয়োগ;
৪. স্থানীয় বাণিজ্যিক প্রতিনিধি নিয়োগ;
৫. শাখা কার্যালয় স্থাপন;
৬. লিয়াজোঁ বা প্রতিনিধিত্বকারী কার্যালয় স্থাপন;
৭. বাংলাদেশে কোম্পানি নিবন্ধন;
৮. বাংলাদেশি কোম্পানির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ;
৯. উৎপাদন কারখানা স্থাপন;
১০. রপ্তানিমুখী উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা; অথবা
১১. বিদ্যমান বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানে কৌশলগত বিনিয়োগ।

 

কোম্পানি বাংলাদেশে ঠিক কী ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করতে চায়, তার ওপর ভিত্তি করে উপযুক্ত কাঠামো নির্বাচন করা উচিত। উদাহরণস্বরূপ, কোনো বিদেশি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান প্রথমবার বাংলাদেশের বাজার যাচাই করতে চাইলে শুরুতেই সহযোগী প্রতিষ্ঠান গঠন না করে একজন যোগ্য আমদানিকারক বা পরিবেশকের মাধ্যমে কাজ শুরু করতে পারে। অন্যদিকে, কোনো বিদেশি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান যদি স্থানীয়ভাবে উৎপাদন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, যন্ত্রপাতি আমদানি এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ করতে চায়, তাহলে বাংলাদেশে নিবন্ধিত কোম্পানি এবং প্রযোজ্য বিনিয়োগ নিবন্ধনের প্রয়োজন হতে পারে।

 

ব্যবহারিক পরামর্শ: শুধু সবচেয়ে কম খরচে বা দ্রুত প্রতিষ্ঠা করা যায় বলে কোনো ব্যবসায়িক কাঠামো নির্বাচন করবেন না। আপনার পরিকল্পিত ব্যবসায়িক কার্যক্রম, করব্যবস্থা, মালিকানা কাঠামো, নিয়ন্ত্রক শর্ত, দায়বদ্ধতার ঝুঁকি, বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজন এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রস্থান কৌশল বিবেচনা করে কাঠামো নির্বাচন করুন।

 

৩. বাংলাদেশে বিদেশি মালিকানাধীন কোম্পানি গঠন

প্রযোজ্য আইন এবং খাতভিত্তিক বিধিনিষেধ অনুসরণ করে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করতে পারেন। কোম্পানি নিবন্ধনের কার্যক্রম পরিচালনা করে Registrar of Joint Stock Companies and Firms (RJSC)। BIDA-এর একক সেবা প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমেও কোম্পানি নিবন্ধনসংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা পাওয়া যায়। একটি সাধারণ কোম্পানি নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় নিম্নোক্ত ধাপগুলো থাকতে পারে:

 

ধাপ ১: নামের ছাড়পত্র

কোম্পানি নিবন্ধনের আগে প্রস্তাবিত কোম্পানির নামের ছাড়পত্র নিতে হবে।

 

ধাপ ২: কোম্পানির সাংবিধানিক দলিল প্রস্তুত

Memorandum of Association এবং Articles of Association-এ প্রস্তাবিত ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও মালিকানা কাঠামো যথাযথভাবে উল্লেখ করা উচিত।

 

ধাপ ৩: বিদেশি মূলধনের ব্যবস্থা

BIDA-এর বিনিয়োগ নির্দেশিকায় বিদেশি মূলধন বাংলাদেশে আনার জন্য কোম্পানি নিবন্ধনের আগে অস্থায়ী বা ব্লকড হিসাব খোলার প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকও বিদেশি বিনিয়োগের জন্য অস্থায়ী অনাবাসী টাকা হিসাব এবং অস্থায়ী বৈদেশিক মুদ্রা হিসাবসংক্রান্ত পদ্ধতি নির্ধারণ করে।

 

ধাপ ৪: কোম্পানি নিবন্ধন সম্পন্ন করা

শেয়ারহোল্ডার, পরিচালক, নিবন্ধিত কার্যালয় এবং কোম্পানির সাংবিধানিক দলিলসহ প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্র জমা দিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।

 

ধাপ ৫: নিবন্ধন-পরবর্তী অনুমোদন সম্পন্ন করা

ব্যবসার ধরন অনুযায়ী নিম্নোক্ত নিবন্ধন বা অনুমোদন প্রয়োজন হতে পারে:

  • ট্রেড লাইসেন্স;
  • করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর;
  • মূসক/বিআইএন নিবন্ধন;
  • BIDA বিনিয়োগ নিবন্ধন;
  • আমদানি নিবন্ধন সনদ;
  • রপ্তানি নিবন্ধন সনদ;
  • পরিবেশগত ছাড়পত্র;
  • অগ্নিনিরাপত্তা লাইসেন্স;
  • কারখানাসংক্রান্ত অনুমোদন;
  • খাতভিত্তিক বিশেষ লাইসেন্স; এবং
  • অন্যান্য প্রয়োজনীয় অনুমতি।

 

প্রত্যেক কোম্পানির জন্য সব লাইসেন্স প্রয়োজন হয় না। ব্যবসার প্রকৃতির ওপর প্রয়োজনীয় অনুমোদন নির্ভর করে।

 

৪. BIDA নিবন্ধন এবং একক সেবা

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা BIDA দেশের প্রধান বিনিয়োগ প্রচার ও সহায়তাকারী সরকারি সংস্থা। BIDA বিনিয়োগ নিবন্ধন, শাখা ও লিয়াজোঁ অফিস অনুমোদন, বিদেশি নাগরিকের ভিসা সুপারিশ ও কর্মানুমতি, যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানিতে সহায়তা, বিদেশি ঋণ, রয়্যালটি ও কারিগরি সহায়তা ফি প্রেরণ এবং বিনিয়োগকারী-পরবর্তী সহায়তাসহ বিভিন্ন সেবা প্রদান করে। BIDA-এর One Stop Service বা OSS একটি একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে, যার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা বিভিন্ন সরকারি সেবা গ্রহণ করতে পারেন।

 

তবে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের তাদের নির্দিষ্ট কার্যক্রমের জন্য BIDA নিবন্ধন প্রয়োজন কি না, তা যাচাই করা উচিত। BIDA-এর তথ্য অনুযায়ী, বিশেষায়িত কিছু বিনিয়োগ এলাকার বাইরে অবস্থিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সাধারণত BIDA নিবন্ধনের প্রয়োজন হয়। অন্যদিকে সাধারণ বাণিজ্যিক, ব্যবসায়িক বা নির্দিষ্ট সেবা কার্যক্রমে সব ক্ষেত্রে একইভাবে BIDA নিবন্ধন বাধ্যতামূলক নাও হতে পারে। এই পার্থক্যটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রতিটি বিদেশি বিনিয়োগকারীর উচিত নিজের ব্যবসায়িক কাঠামো অনুযায়ী পেশাদার পরামর্শ নেওয়া এবং সব বিদেশি কোম্পানির জন্য একই অনুমোদন প্রক্রিয়া প্রযোজ্য এমন ধারণা না করা।

বাংলাদেশে ব্যবসা
পেশাদার ব্যবসায়িক পরামর্শদাতার সহায়তায় আপনার ব্যবসার প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করুন

৫. শাখা, লিয়াজোঁ ও প্রতিনিধিত্বকারী কার্যালয়

একটি বিদেশি কোম্পানির সব সময় বাংলাদেশে পৃথক সহযোগী কোম্পানি নিবন্ধনের প্রয়োজন নাও হতে পারে। ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যের ওপর ভিত্তি করে কোম্পানি বিবেচনা করতে পারে:

  • শাখা কার্যালয়;
  • লিয়াজোঁ কার্যালয়; অথবা
  • প্রতিনিধিত্বকারী কার্যালয়।

 

মূল কোম্পানি যদি শুরুতেই পূর্ণাঙ্গ সহযোগী প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা না করে সরাসরি বাংলাদেশে উপস্থিতি রাখতে চায়, তাহলে এসব কাঠামো বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক হতে পারে। বিদেশি শাখা, লিয়াজোঁ এবং প্রতিনিধিত্বকারী কার্যালয়ের অনুমোদন BIDA পরিচালনা করে। তাদের প্রকাশিত প্রয়োজনীয়তার মধ্যে মূল কোম্পানির প্রাতিষ্ঠানিক দলিল, নিরীক্ষিত হিসাব, প্রস্তাবিত সাংগঠনিক কাঠামো, পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত এবং বাংলাদেশে পরিচালিতব্য কার্যক্রমের তথ্য অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। প্রতিটি ধরনের অফিসের অনুমোদিত কার্যক্রমের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য থাকতে পারে। তাই কোম্পানি বাংলাদেশে যে আয়সৃষ্টিকারী ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে চায়, তা নির্বাচিত কাঠামোর আওতায় অনুমোদিত কি না, আগে থেকেই যাচাই করা উচিত।

 

৬. সঠিক বাংলাদেশি আমদানিকারক বা পরিবেশক খুঁজুন

অনেক বিদেশি কোম্পানির জন্য বাংলাদেশে প্রবেশের সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পদ্ধতি সরাসরি বিনিয়োগ নয়; বরং একজন নির্ভরযোগ্য স্থানীয় আমদানিকারক, পরিবেশক বা ডিলার নিয়োগ করা। তবে ভুল পরিবেশক নিয়োগ একটি ব্র্যান্ডকে বছরের পর বছর ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

 

একজন উপযুক্ত পরিবেশককে নিম্নোক্ত বিষয়ের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা উচিত:

  • আর্থিক সক্ষমতা;
  • আমদানির অভিজ্ঞতা;
  • বিদ্যমান পণ্যের তালিকা;
  • ভৌগোলিক বাজার কভারেজ;
  • বিক্রয় দল;
  • ডিলার নেটওয়ার্ক;
  • গুদামজাতকরণ সুবিধা;
  • প্রযুক্তিগত সক্ষমতা;
  • বৈধ ও প্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রে সরকারি সংস্থার সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা;
  • ব্যবসায়িক সুনাম;
  • বিদ্যমান প্রতিযোগী ব্র্যান্ড;
  • ব্যাংকিং রেকর্ড; এবং
  • বিপণনে বিনিয়োগের আগ্রহ।

 

শুধু কেউ একটি অনুসন্ধানপত্র পাঠিয়ে একচেটিয়া এজেন্সি চেয়েছে বলেই বিদেশি সরবরাহকারীদের তাকে পরিবেশক নিয়োগ করা উচিত নয়।

 

T&IB-এর ডিলার ও পরিবেশক নিয়োগ সেবা

T&IB তার Dealers & Distributors Recruitment Services-এর মাধ্যমে বিদেশি কোম্পানিকে সহায়তা করতে পারে। এই প্রক্রিয়ায় সম্ভাব্য অংশীদার চিহ্নিত করা, নির্বাচিত কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ, ব্যবসায়িক সুযোগ প্রচার, আগ্রহপত্র সংগ্রহ, সাক্ষাৎকার বা বৈঠকের ব্যবস্থা, বাণিজ্যিক যথাযথ যাচাই এবং বিদেশি মূল কোম্পানিকে উপযুক্ত অংশীদার নির্বাচনে সহায়তা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

ফলে পরিবেশক নিয়োগ একটি অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগনির্ভর প্রক্রিয়ার পরিবর্তে একটি সুসংগঠিত ব্যবসা উন্নয়ন কার্যক্রমে পরিণত হয়।

 

৭. বাংলাদেশে ক্রেতা-বিক্রেতা সংযোগ

অনলাইনে একটি কোম্পানির নাম খুঁজে পাওয়া তুলনামূলক সহজ। কিন্তু প্রকৃত ক্রয় আগ্রহসম্পন্ন যোগ্য ক্রেতা খুঁজে পাওয়া অনেক কঠিন। বাংলাদেশের বাজার লক্ষ্য করে বিদেশি রপ্তানিকারকদের সম্ভাব্য যেসব পক্ষ চিহ্নিত করা উচিত:

  • আমদানিকারক;
  • পাইকারি ব্যবসায়ী;
  • পরিবেশক;
  • খুচরা বিক্রয় প্রতিষ্ঠান;
  • উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান;
  • প্রাতিষ্ঠানিক ক্রেতা;
  • করপোরেট ক্রয় বিভাগ;
  • প্রকল্প ঠিকাদার; এবং
  • প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সরকারি বা সরকারসংশ্লিষ্ট ক্রেতা।

 

T&IB-এর Buyers-Sellers Matchmaking Services সম্ভাব্য বাংলাদেশি ক্রেতা চিহ্নিতকরণ, প্রাথমিক যোগাযোগ স্থাপন, ব্যবসায়িক প্রস্তাব উপস্থাপন এবং ব্যবসায়িক বৈঠক আয়োজনে বিদেশি রপ্তানিকারকদের সহায়তা করতে পারে। বিশেষ করে যেসব বিদেশি কোম্পানি মাত্র কয়েক দিনের জন্য বাংলাদেশ সফর করে, তাদের জন্য এই সেবা অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে। বাংলাদেশে এসে যোগাযোগ খোঁজা শুরু করার পরিবর্তে আগেই সম্ভাব্য ক্রেতাদের সঙ্গে বৈঠকের ব্যবস্থা করা যায়।

 

৮. বাংলাদেশে পণ্য আমদানি

বাংলাদেশে পণ্য বিক্রি করতে আগ্রহী বিদেশি কোম্পানিগুলোর জানা উচিত যে তাদের বাংলাদেশি আমদানিকারকের সাধারণত প্রয়োজনীয় আমদানি অনুমোদন থাকতে হবে। Chief Controller of Imports and Exports বা CCI&E প্রযোজ্য নিবন্ধন কাঠামোর অধীনে বাণিজ্যিক ও শিল্প Import Registration Certificate বা IRC প্রদান ও পরিচালনা করে। পণ্যের ধরন অনুযায়ী মান নিয়ন্ত্রণ, খাদ্য নিরাপত্তা, ওষুধ, টেলিযোগাযোগ, কৃষি, পরিবেশ, রাসায়নিক বা অন্যান্য নিয়ন্ত্রিত খাতের কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত অনুমোদনের প্রয়োজন হতে পারে।

 

তাই বাংলাদেশি ক্রেতাকে মূল্য প্রস্তাব দেওয়ার আগে বিদেশি রপ্তানিকারকের নিম্নোক্ত বিষয়গুলো যাচাই করা উচিত: HS Code → Customs Duty → প্রযোজ্য ক্ষেত্রে Regulatory Duty → প্রযোজ্য ক্ষেত্রে Supplementary Duty → VAT → Advance Tax/অন্যান্য প্রযোজ্য কর → পণ্যভিত্তিক অনুমোদন → মোট Landed Cost।

 

FOB পর্যায়ে একটি পণ্য সস্তা মনে হলেও পরিবহন ব্যয়, শুল্ক, কর, বন্দর ব্যয়, পরিবেশকের মুনাফা এবং স্থানীয় বিধিবিধান পালনের খরচ যোগ করার পর সেটি বাণিজ্যিকভাবে প্রতিযোগিতাহীন হয়ে যেতে পারে।

 

ব্যবহারিক পরামর্শ: বাংলাদেশে কোনো পণ্য বাজারজাত করার আগে আনুমানিক মোট আমদানি-পরবর্তী ব্যয় বা Landed Cost হিসাব করুন।

 

৯. কর এবং মূসক

বিনিয়োগ কাঠামো তৈরির শুরু থেকেই কর পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিবেচনা করা উচিত:

  • করপোরেট আয়কর;
  • উৎসে কর;
  • মূসক;
  • শুল্ক;
  • প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সম্পূরক শুল্ক;
  • কর্মীদের আয়কর;
  • লভ্যাংশের ওপর কর;
  • মূলধনি মুনাফার প্রভাব;
  • দ্বৈত কর পরিহার চুক্তির সুবিধা; এবং
  • স্থানান্তর মূল্য নির্ধারণসংক্রান্ত বিধান।

 

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা NBR কর এবং মূসক প্রশাসন পরিচালনা করে। NBR-এর মূসক নির্দেশিকা অনুযায়ী, যেসব ব্যবসার মূসক নিবন্ধন প্রয়োজন তারা Business Identification Number বা BIN পায়। ব্যাংকিং এবং আমদানি-রপ্তানিসহ স্বাভাবিক বাণিজ্যিক কার্যক্রমে এটি গুরুত্বপূর্ণ। করহার, অব্যাহতি, সীমা এবং প্রণোদনা কর্মসূচি বার্ষিক অর্থ আইন ও নিয়ন্ত্রক আদেশের মাধ্যমে পরিবর্তিত হতে পারে।

 

তাই বিদেশি বিনিয়োগকারীদের পুরোনো অনলাইন নিবন্ধের ওপর নির্ভর না করে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বর্তমান অর্থবছরের করহার এবং সংশ্লিষ্ট খাতের জন্য প্রযোজ্য বিধান যাচাই করা উচিত।

 

১০. ব্যাংকিং, বৈদেশিক মুদ্রা এবং মুনাফা প্রত্যাবাসন

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শুরু থেকেই যথাযথ ব্যাংকিং কাঠামো গড়ে তোলা উচিত। মূলধন বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে পাঠানো এবং যথাযথভাবে নথিভুক্ত করা উচিত। ভবিষ্যতে লভ্যাংশ বা মূলধন নিজ দেশে ফেরত নেওয়ার সময় বিদেশ থেকে অর্থ প্রেরণের নথি, এনক্যাশমেন্ট সনদ এবং বিনিয়োগসংক্রান্ত দলিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রচলিত কাঠামোর অধীনে প্রযোজ্য কর পরিশোধের পর নগদ লভ্যাংশ নির্দিষ্ট শর্ত পূরণসাপেক্ষে অনাবাসী শেয়ারহোল্ডারদের কাছে পাঠানো যায়। বাংলাদেশ ব্যাংক অনাবাসীদের মালিকানাধীন শেয়ারের বিক্রয়লব্ধ অর্থ প্রত্যাবাসনের পদ্ধতিও নির্ধারণ করে। অতএব বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উচিত প্রবেশের সময়ই প্রস্থান পরিকল্পনা বিবেচনা করা।

কোম্পানি বিক্রির সময় গিয়ে প্রথমবার যাচাই করবেন না যে মূল বিদেশি বিনিয়োগটি যথাযথভাবে নথিভুক্ত হয়েছিল কি না।

বাংলাদেশ থেকে আন্তর্জাতিক ক্রেতা কীভাবে খুঁজে পাবেন?
বাংলাদেশ থেকে রপ্তানির জন্য আন্তর্জাতিক ক্রেতা কীভাবে খুঁজে পাবেন?

১১. বিদেশি কর্মী, ভিসা ও কর্মানুমতি

একটি বিদেশি মালিকানাধীন কোম্পানির বিদেশি পরিচালক, প্রযুক্তিবিদ, প্রকৌশলী, ব্যবস্থাপক বা অন্যান্য পেশাজীবীর প্রয়োজন হতে পারে। বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের প্রযোজ্য ভিসা এবং কর্মানুমতির বিধান অনুসরণ করতে হয়। যোগ্য বিনিয়োগ প্রকল্প এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য BIDA ভিসা সুপারিশ এবং বিদেশি কর্মীদের কর্মানুমতি প্রদানে সহায়তা করে। প্রকাশিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী করপোরেট দলিল, চাকরিসংক্রান্ত নথি, পাসপোর্ট এবং অন্যান্য সহায়ক কাগজপত্র প্রয়োজন হতে পারে। বিদেশি কর্মী নিয়োগকে বিনিয়োগের পরবর্তী ছোটখাটো বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। বিনিয়োগ পরিকল্পনা তৈরির সময় থেকেই বিদেশি জনবলের প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ করা উচিত।

 

১২. রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল এবং রপ্তানিমুখী বিনিয়োগ

আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশে উৎপাদন করতে আগ্রহী বিদেশি কোম্পানিগুলোর দেশের রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলসমূহ বিবেচনা করা উচিত। Bangladesh Export Processing Zones Authority বা BEPZA বর্তমানে আটটি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল এবং BEPZA Economic Zone পরিচালনা করছে। BEPZA-এর তথ্যমতে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তাদের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় ৮.৪১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে এবং ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ৫ লাখ ৫৮ হাজারের বেশি বাংলাদেশি নাগরিকের কর্মসংস্থান করেছে। BEPZA-এর আওতায় শতভাগ বিদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান, যৌথ উদ্যোগ এবং স্থানীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে। যোগ্য প্রতিষ্ঠানের জন্য শর্তসাপেক্ষে শুল্কমুক্ত আমদানি এবং অর্থ প্রত্যাবাসন সুবিধাসহ বিভিন্ন আর্থিক ও অ-আর্থিক সুবিধাও রয়েছে।

 

রপ্তানিমুখী উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সাধারণ শিল্পাঞ্চল, রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল, অর্থনৈতিক অঞ্চল অথবা অন্য কোনো বিশেষায়িত বিনিয়োগ এলাকা নির্বাচন করব্যবস্থা, শুল্ক প্রক্রিয়া, অবকাঠামো, পরিবহন এবং কার্যক্রম পরিচালনার নমনীয়তার ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। তাই জমি বা কারখানায় বিনিয়োগের আগে বিভিন্ন স্থানের বিস্তারিত তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা উচিত।

 

১৩. অংশীদার নির্বাচনের আগে যথাযথ যাচাই করুন

বাংলাদেশে ব্যবসা করার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম খুবই সহজ: বিশ্বাস করার আগে যাচাই করুন। বিদেশি কোম্পানিগুলো প্রায়ই সম্ভাব্য এজেন্ট, আমদানিকারক, সরবরাহকারী, বিনিয়োগ অংশীদার এবং মধ্যস্থতাকারীদের কাছ থেকে আকর্ষণীয় প্রস্তাব পেয়ে থাকে। চুক্তি স্বাক্ষর বা অর্থ পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে যাচাই করুন। বাণিজ্যিক যথাযথ যাচাইয়ের সময় প্রযোজ্য ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো পরীক্ষা করা উচিত:

  • কোম্পানি নিবন্ধন;
  • পরিচালক ও শেয়ারহোল্ডার;
  • নিবন্ধিত ঠিকানা;
  • ট্রেড লাইসেন্স;
  • TIN;
  • VAT/BIN;
  • IRC/ERC;
  • ব্যবসায়িক সমিতির সদস্যপদ;
  • বাস্তব অফিস বা কারখানা;
  • বাজারে সুনাম;
  • বিদ্যমান ব্যবসায়িক কার্যক্রম;
  • প্রধান গ্রাহক;
  • আর্থিক সক্ষমতা;
  • ব্যাংকিং রেফারেন্স;
  • তথ্য পাওয়া গেলে মামলা বা গুরুত্বপূর্ণ বিরোধ;
  • পূর্ববর্তী আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম; এবং
  • আলোচনাকারী ব্যক্তির আইনগত বা প্রাতিষ্ঠানিক কর্তৃত্ব।

 

T&IB-এর বাণিজ্যিক যথাযথ যাচাই সেবা

T&IB সম্ভাব্য বাংলাদেশি ব্যবসায়িক অংশীদার যাচাই করতে আগ্রহী বিদেশি কোম্পানির জন্য Commercial Due Diligence and Business Verification Services প্রদান করে। শুধু কাগজপত্র যাচাই করে পর্যাপ্ত নিশ্চয়তা না পাওয়া গেলে সরেজমিন যাচাই এবং স্থানীয় বাজারে অনুসন্ধান বিশেষভাবে কার্যকর হতে পারে।

 

১৪. বাংলাদেশের ব্যবসায়িক সংস্কৃতি বুঝুন

আইন ও বিধিবিধান মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তবে ব্যবসায়িক সংস্কৃতি বোঝাও সমানভাবে জরুরি। বাংলাদেশ একটি সম্পর্কনির্ভর ব্যবসায়িক পরিবেশ। নিয়মিত যোগাযোগ, সরাসরি সাক্ষাৎ এবং পরিচিতজনের সুপারিশের মাধ্যমে প্রায়ই ব্যবসায়িক আস্থা তৈরি হয়। বিদেশি কোম্পানিগুলোর উচিত:

 

সম্পর্ক তৈরিতে বিনিয়োগ করা: একটি ভিডিও বৈঠকের পরই প্রতিটি বড় চুক্তি সম্পন্ন হবে—এমন প্রত্যাশা করা উচিত নয়।

 

নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা: ব্যবসায়িক আলোচনায় একাধিকবার অনুসরণমূলক যোগাযোগের প্রয়োজন হতে পারে।

 

বাংলাদেশ সফর করা: একটি আন্তরিক বিদেশি কোম্পানি সম্ভাব্য অংশীদারের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ, কার্যালয় বা কারখানা পরিদর্শন এবং বাজার সম্পর্কে বাস্তব ধারণা অর্জনের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করতে পারে।

 

পদমর্যাদাকে সম্মান করা: বড় ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং মালিকেরা প্রায়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

 

সমঝোতা লিখিতভাবে নিশ্চিত করা: মৌখিক আলোচনাকে শেষ পর্যন্ত পরিষ্কার লিখিত বাণিজ্যিক চুক্তিতে রূপান্তর করা উচিত।

 

ধৈর্যশীল কিন্তু শৃঙ্খলাবদ্ধ থাকুন: সম্পর্ক তৈরি গুরুত্বপূর্ণ, তবে চুক্তি, অর্থ পরিশোধের নিরাপত্তা এবং যথাযথ যাচাই কখনো উপেক্ষা করা উচিত নয়।

 

১৫. যথাযথ চুক্তির মাধ্যমে নিজেকে সুরক্ষিত রাখুন

করমর্দনের মাধ্যমে একটি ব্যবসায়িক সম্পর্ক শুরু হতে পারে, কিন্তু সেটি পেশাদার লিখিত চুক্তির বিকল্প হতে পারে না। পরিবেশক, এজেন্সি, সরবরাহ, যৌথ উদ্যোগ এবং বিনিয়োগ চুক্তিতে স্পষ্টভাবে নিম্নোক্ত বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা উচিত:

  • ব্যবসায়িক এলাকা;
  • একচেটিয়া অধিকার;
  • ন্যূনতম বিক্রয় লক্ষ্যমাত্রা;
  • মূল্য;
  • অর্থ পরিশোধের শর্ত;
  • বিপণনের দায়িত্ব;
  • মেধাস্বত্ব;
  • গোপনীয়তা;
  • ওয়ারেন্টি;
  • বিক্রয়োত্তর সেবা;
  • চুক্তি বাতিলের শর্ত;
  • চুক্তি শেষ হওয়ার পর অবিক্রীত পণ্যের ব্যবস্থাপনা;
  • দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা;
  • প্রযোজ্য আইন; এবং
  • বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা।

 

গুরুত্বপূর্ণ লেনদেনের ক্ষেত্রে বিদেশি কোম্পানির যোগ্য আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে বাংলাদেশের জন্য একচেটিয়া পরিবেশক নিয়োগের আগে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একচেটিয়া অধিকার কোনো শর্ত ছাড়া অনির্দিষ্টকালের জন্য না দিয়ে সাধারণত পরিমাপযোগ্য ব্যবসায়িক ফলাফলের সঙ্গে যুক্ত করা উচিত।

ডিরেক্টরি
ডিরেক্টরি

১৬. অর্থ পরিশোধের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা

বাংলাদেশে ব্যবসা করতে আগ্রহী বিদেশি রপ্তানিকারকদের পরিষ্কার অর্থ পরিশোধ নীতি নির্ধারণ করা উচিত। লেনদেন এবং ব্যবসায়িক সম্পর্কের প্রকৃতি অনুযায়ী অগ্রিম অর্থ, Documentary Credit/Letter of Credit এবং প্রযোজ্য বিধিবিধানের অধীনে অনুমোদিত অন্যান্য ব্যাংকিং ব্যবস্থার ব্যবহার হতে পারে। নতুন ক্রেতার ক্ষেত্রে শুধু সম্ভাব্য ক্রয়াদেশ বড় বলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অনিরাপদ বাকিতে পণ্য সরবরাহ করা উচিত নয়।

 

বড় ধরনের বাণিজ্যিক ঝুঁকি নেওয়ার আগে: ক্রেতা যাচাই করুন → আর্থিক সক্ষমতা মূল্যায়ন করুন → ব্যাংকিং ব্যবস্থা বুঝুন → Incoterms নির্ধারণ করুন → প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নির্ধারণ করুন → প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বীমার ব্যবস্থা করুন → তারপর পণ্য পাঠান।

ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা লাভজনক রপ্তানি ব্যবসার অবিচ্ছেদ্য অংশ।

 

১৭. ট্রেডমার্ক ও মেধাস্বত্ব সুরক্ষিত করুন

বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ড গড়তে আগ্রহী বিদেশি কোম্পানিগুলোর শুরুতেই ট্রেডমার্ক এবং অন্যান্য মেধাস্বত্ব সুরক্ষার বিষয় বিবেচনা করা উচিত। পণ্য জনপ্রিয় হওয়ার পর পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত নয়।

 

ব্র্যান্ড মালিকদের নিম্নোক্ত বিষয় পর্যালোচনা করা উচিত:

  • ট্রেডমার্ক নিবন্ধন;
  • ডোমেইন নাম সুরক্ষা;
  • পরিবেশকের মাধ্যমে ট্রেডমার্ক ব্যবহারের অধিকার;
  • প্যাকেজিংয়ের অধিকার;
  • গোপনীয় ব্যবসায়িক তথ্য;
  • প্রযুক্তি লাইসেন্সিং;
  • কপিরাইট;
  • নকশাসংক্রান্ত অধিকার; এবং
  • চুক্তিভিত্তিক মেধাস্বত্বের মালিকানা।

 

সাধারণভাবে পরিবেশককে বিদেশি মূল কোম্পানির ব্র্যান্ড ব্যবহারের সুস্পষ্ট ও সীমিত অধিকার দেওয়া উচিত—ব্র্যান্ডের মালিকানা নয়।

 

১৮. স্থানীয়ভাবে আপনার পণ্য প্রচার করুন

পরিবেশক নিয়োগের মাধ্যমে বাজারে প্রবেশ প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যায় না। বিদেশি ব্র্যান্ডের জন্য বাজার উন্নয়ন অপরিহার্য। শিল্পখাত অনুযায়ী বাংলাদেশে বিপণন কৌশলে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে:

  • ডিজিটাল বিপণন;
  • ফেসবুক প্রচার;
  • গুগল বিজ্ঞাপন;
  • ইউটিউব প্রচার;
  • বাণিজ্য প্রদর্শনী;
  • ব্যবসায়িক বৈঠক;
  • করপোরেট উপস্থাপনা;
  • পণ্য প্রদর্শনী;
  • ডিলার সম্মেলন;
  • শিল্প ও বাণিজ্য সমিতির সঙ্গে যোগাযোগ;
  • ই-মেইল বিপণন;
  • জনসংযোগ কার্যক্রম;
  • ব্যবসায়িক নির্দেশিকায় তালিকাভুক্তি; এবং
  • সরাসরি করপোরেট যোগাযোগ।

 

T&IB ব্যবসা প্রচার ও ডিজিটাল বিপণন সহায়তার আওতায় Facebook Promotion, Google Ads, YouTube Promotion, Email Marketing, Business Networking, B2B Meetings এবং Market Development Campaigns-সহ বিভিন্ন সেবা প্রদান করে।

 

১৯. একক কোম্পানি প্রদর্শনী বিবেচনা করুন

কিছু বিদেশি কোম্পানির বিস্তৃত পণ্যসম্ভার রয়েছে, কিন্তু তারা একটি বড় সাধারণ বাণিজ্য প্রদর্শনীর ওপর সম্পূর্ণ নির্ভর করতে চায় না। তাদের জন্য একটি Single Company Exhibition বা একক কোম্পানি প্রদর্শনী কার্যকর বিকল্প হতে পারে।

 

T&IB-এর Single Company Exhibition Service-এর মাধ্যমে একটি বিদেশি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান তার পণ্য সরাসরি নির্বাচিত বাংলাদেশি:

  • আমদানিকারক;
  • ডিলার;
  • পরিবেশক;
  • করপোরেট ক্রেতা;
  • শিল্পখাতের প্রতিনিধি; এবং
  • সম্ভাব্য ব্যবসায়িক অংশীদারদের

 

কাছে প্রদর্শন করতে পারে। এই ধরনের আয়োজনে একই প্ল্যাটফর্মে পণ্য প্রদর্শন, উপস্থাপনা, ব্যবসায়িক যোগাযোগ, পরিবেশক নিয়োগ এবং ক্রেতা-বিক্রেতা বৈঠকের সমন্বয় করা সম্ভব।

 

২০. বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রধান সম্ভাবনাময় খাত

বিদেশি কোম্পানিগুলোর উচিত পুরো অর্থনীতিকে একটি একক বাজার হিসেবে বিবেচনা না করে খাতভিত্তিকভাবে বাংলাদেশের সম্ভাবনা মূল্যায়ন করা। সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে:

 

বস্ত্র ও তৈরি পোশাক সরবরাহ শৃঙ্খল

বাংলাদেশের বিশাল তৈরি পোশাক ও বস্ত্রশিল্প যন্ত্রপাতি, ফাইবার, সুতা, তুলা, রাসায়নিক পদার্থ, রং, অ্যাকসেসরিজ, স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি, জ্বালানি-সাশ্রয়ী প্রযুক্তি এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির সমাধানের চাহিদা সৃষ্টি করে।

 

কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও খাদ্য

ভোগ বৃদ্ধি, নগরায়ণ এবং খুচরা বাজারের পরিবর্তিত ধরন খাদ্য উপকরণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ যন্ত্রপাতি, প্যাকেজিং, হিমায়িত সরবরাহব্যবস্থা এবং ব্র্যান্ডেড খাদ্যপণ্যে সুযোগ তৈরি করছে।

 

ওষুধ ও স্বাস্থ্যসেবা

চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধের সক্রিয় কাঁচামাল, স্বাস্থ্য প্রযুক্তি, রোগ নির্ণয় ব্যবস্থা এবং বিশেষায়িত ওষুধ উৎপাদন সহযোগিতায় সুযোগ রয়েছে।

 

হালকা প্রকৌশল ও যন্ত্রপাতি

শিল্প সম্প্রসারণ যন্ত্রপাতি, যন্ত্রাংশ, স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি, রক্ষণাবেক্ষণ প্রযুক্তি এবং প্রকৌশল সমাধানের চাহিদা সৃষ্টি করছে।

 

নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও জ্বালানি দক্ষতা

শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর জ্বালানি-সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি এবং বিকল্প জ্বালানি সমাধানের প্রয়োজন ক্রমশ বাড়ছে।

 

তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিজিটাল সেবা

সফটওয়্যার, আর্থিক প্রযুক্তিসংশ্লিষ্ট সমাধান, প্রাতিষ্ঠানিক প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা এবং ডিজিটাল অবকাঠামোতে সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।

 

পরিবহন ও সরবরাহ শৃঙ্খল

গুদামজাতকরণ, হিমাগার, মালামাল ব্যবস্থাপনা, পরিবহন প্রযুক্তি এবং সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক খাত।

 

ভোক্তা বাজার

বাংলাদেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠী উপযুক্ত ভোগ্যপণ্যের জন্য উল্লেখযোগ্য বাজার সৃষ্টি করে, যদিও মূল্য এবং পরিবেশনা কৌশল এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

২১. বিদেশি কোম্পানিগুলোর সাধারণ যেসব ভুল এড়ানো উচিত

বাংলাদেশের বাজারে প্রবেশের সময় বিদেশি কোম্পানিগুলোর কয়েকটি সাধারণ ভুল এড়ানো উচিত:

বাজার গবেষণা ছাড়া প্রবেশ করা: বিশাল জনগোষ্ঠী থাকলেই সব ধরনের পণ্যের চাহিদা থাকবে এমন নয়।

 

প্রথম যোগাযোগকারী প্রতিষ্ঠানকেই পরিবেশক নিয়োগ করা: একাধিক প্রার্থীর তুলনা করুন।

 

তাৎক্ষণিকভাবে একচেটিয়া অধিকার প্রদান করা: একচেটিয়া অধিকারকে ব্যবসায়িক ফলাফলের সঙ্গে যুক্ত করুন।

 

মোট আমদানি-পরবর্তী ব্যয় উপেক্ষা করা: শুল্ক ও কর পণ্যের মূল্য কাঠামো সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে।

 

আমদানি বিধিবিধান না বুঝে পণ্য পাঠানো: আগে নিয়ম মেনে চলার বিষয় নিশ্চিত করুন।

 

যথাযথ যাচাই উপেক্ষা করা: গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক প্রতিশ্রুতির আগে অংশীদার যাচাই করুন।

 

বাংলাদেশকে অন্য কোনো দক্ষিণ এশীয় দেশের মতো একইভাবে পরিচালিত বাজার মনে করা: প্রতিটি দেশের নিজস্ব বাণিজ্যিক ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো রয়েছে।

 

একজন ব্যক্তির ওপর পুরোপুরি নির্ভর করা: ব্যক্তিনির্ভর যোগাযোগের পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক তৈরি করুন।

 

বিক্রয়োত্তর সেবাকে অবমূল্যায়ন করা: বিশেষ করে যন্ত্রপাতি এবং প্রযুক্তিগত পণ্যের ক্ষেত্রে স্থানীয় বিক্রয়োত্তর সেবা সাফল্য নির্ধারণ করতে পারে।

 

মুনাফা প্রত্যাবাসন ও বিনিয়োগ থেকে প্রস্থানের পরিকল্পনা না করা: প্রথম দিন থেকেই বিদেশি বিনিয়োগ যথাযথ কাঠামোর মধ্যে পরিচালনা করুন।

বাংলাদেশে আমদানির জন্য শীর্ষ ১০টি ব্রাজিলিয়ান পণ্য
বাংলাদেশে আমদানির জন্য শীর্ষ ১০টি ব্রাজিলিয়ান পণ্য

২২. বাংলাদেশে প্রবেশের ধাপে ধাপে পথনির্দেশিকা

একটি বিদেশি কোম্পানি নিম্নোক্ত বাস্তবসম্মত ধাপ অনুসরণ করতে পারে:

 

ধাপ ১ – উদ্দেশ্য নির্ধারণ

বাংলাদেশকে রপ্তানি বাজার, উৎপাদনকেন্দ্র, পণ্য সংগ্রহের উৎস, বিনিয়োগের গন্তব্য অথবা আঞ্চলিক ব্যবসায়িক কেন্দ্র কোন উদ্দেশ্যে বিবেচনা করা হচ্ছে তা নির্ধারণ করুন।

 

ধাপ ২ – বাজার গবেষণা

চাহিদা, প্রতিযোগিতা, মূল্য, বিধিবিধান এবং সম্ভাব্য গ্রাহক সম্পর্কে গবেষণা করুন।

 

ধাপ ৩ – বাংলাদেশ সফর

প্রাসঙ্গিক কোম্পানি, ব্যবসায়িক সমিতি, সরকারি সংস্থা এবং সেবা প্রদানকারীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করুন।

 

ধাপ ৪ – বাজারে প্রবেশের পদ্ধতি নির্বাচন

রপ্তানি, পরিবেশক নিয়োগ, স্থানীয় কোম্পানি, শাখা অফিস, যৌথ উদ্যোগ অথবা উৎপাদন বিনিয়োগের মধ্যে উপযুক্ত পদ্ধতি নির্বাচন করুন।

 

ধাপ ৫ – ব্যবসায়িক অংশীদারের যথাযথ যাচাই

সম্ভাব্য আমদানিকারক, পরিবেশক, সরবরাহকারী অথবা যৌথ উদ্যোগের অংশীদার যাচাই করুন।

 

ধাপ ৬ – ব্যবসায়িক পরিকল্পনা তৈরি

বিনিয়োগ, পরিচালন ব্যয়, কর, মোট আমদানি-পরবর্তী ব্যয়, বিক্রয় পূর্বাভাস এবং কার্যকরী মূলধনের প্রয়োজনীয়তা হিসাব করুন।

 

ধাপ ৭ – নিবন্ধন ও লাইসেন্স সম্পন্ন

কোম্পানি নিবন্ধন এবং প্রযোজ্য BIDA, কর, মূসক, ট্রেড, আমদানি-রপ্তানি, পরিবেশগত ও খাতভিত্তিক নিবন্ধন সম্পন্ন করুন।

 

ধাপ ৮ – ব্যাংকিং ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা

বিদেশি মূলধন এবং ব্যাংকিং লেনদেন যথাযথভাবে নথিভুক্ত করুন।

 

ধাপ ৯ – স্থানীয় ব্যবস্থাপনা দল গঠন

বাংলাদেশে কার্যকর একটি স্থানীয় দল তৈরি করুন।

 

ধাপ ১০ – পরিবেশনা ব্যবস্থা গড়ে তুলুন

প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবেশক, ডিলার এবং বিপণন অংশীদার নিয়োগ করুন।

 

ধাপ ১১ – বিপণন শুরু করুন

ব্যবসায়িক বৈঠক, ডিজিটাল প্রচার, প্রদর্শনী এবং করপোরেট যোগাযোগ ব্যবহার করুন।

 

ধাপ ১২ – কার্যক্রমের ফলাফল পর্যবেক্ষণ করুন

বিক্রয়, বিধিবিধান মেনে চলা, অংশীদারের কার্যকারিতা এবং লাভজনকতা নিয়মিত পর্যালোচনা করুন।

 

Trade & Investment Bangladesh (T&IB) কীভাবে বিদেশি কোম্পানিকে সহায়তা করতে পারে?

একটি নতুন দেশে ব্যবসা শুরু করতে বহু প্রতিষ্ঠান, প্রক্রিয়া এবং বাণিজ্যিক সিদ্ধান্তের সঙ্গে কাজ করতে হয়। একজন দক্ষ স্থানীয় ব্যবসায়িক সহায়তা অংশীদার থাকলে অনিশ্চয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো এবং ব্যবস্থাপনার মূল্যবান সময় সাশ্রয় করা সম্ভব। Trade & Investment Bangladesh (T&IB) একটি ব্যবসায়িক পরামর্শ, বাণিজ্য সহায়তা এবং বাজারে প্রবেশ সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে আন্তর্জাতিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশের ব্যবসায়িক সুযোগের সঙ্গে সংযুক্ত করতে কাজ করে।

 

T&IB-এর প্রাসঙ্গিক সেবাসমূহের মধ্যে রয়েছে:

  • বাংলাদেশ বাজারে প্রবেশ পরামর্শ
  • ব্যবসায়িক মেন্টরশিপ
  • বাজার গবেষণা
  • বাণিজ্যিক যথাযথ যাচাই
  • কোম্পানি ও ব্যবসা যাচাই
  • ক্রেতা-বিক্রেতা সংযোগ
  • আমদানিকারক চিহ্নিতকরণ
  • ডিলার ও পরিবেশক নিয়োগ
  • সরবরাহকারী চিহ্নিতকরণ
  • রপ্তানি সহায়তা
  • বিনিয়োগ প্রচার ও প্রতিনিধিত্ব
  • ব্যবসা-টু-ব্যবসা বৈঠকের আয়োজন
  • ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদল সহায়তা
  • একক কোম্পানি প্রদর্শনী
  • ব্যবসা প্রচার
  • ডিজিটাল বিপণন
  • ব্যবসায়িক নির্দেশিকায় তালিকাভুক্তি
  • স্থানীয় ব্যবসায়িক যোগাযোগ ও নেটওয়ার্কিং

 

ফলে একটি বিদেশি কোম্পানি প্রাথমিক বাজার গবেষণা থেকে শুরু করে অংশীদার চিহ্নিতকরণ, বাজারে প্রবেশ, ব্যবসা প্রচার এবং সম্প্রসারণ পর্যন্ত T&IB-এর সঙ্গে কাজ করতে পারে। অসংখ্য অপরিচিত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলাদাভাবে যোগাযোগ করার পরিবর্তে বিদেশি কোম্পানি একটি সুসংগঠিত স্থানীয় বাজার-প্রবেশ প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে পারে।

 

বাংলাদেশে ব্যবসা শুরুর আগে ব্যবহারিক যাচাই তালিকা

বড় ধরনের মূলধন বিনিয়োগ বা গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষরের আগে বিদেশি কোম্পানির নিশ্চিত হওয়া উচিত:

✓ আমাদের পণ্য বা সেবার প্রমাণিত বাজার চাহিদা রয়েছে কি?

✓ আমরা কি সম্পূর্ণ আমদানি-পরবর্তী ব্যয় হিসাব করেছি?

✓ আমরা কি প্রাসঙ্গিক আইন ও বিধিবিধান বুঝেছি?

✓ আমরা কি সঠিক আইনগত ব্যবসায়িক কাঠামো নির্বাচন করেছি?

✓ আমাদের কি BIDA নিবন্ধন বা অন্য কোনো বিনিয়োগ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন?

✓ খাতভিত্তিক বিশেষ অনুমোদনের প্রয়োজন আছে কি?

✓ আমরা কি আমাদের আমদানিকারক, পরিবেশক অথবা যৌথ উদ্যোগের অংশীদার যাচাই করেছি?

✓ আমাদের ট্রেডমার্ক কি সুরক্ষিত?

✓ অর্থ পরিশোধের শর্ত কি পর্যাপ্তভাবে নিরাপদ?

✓ বিদেশি বিনিয়োগ এবং ব্যাংকিং লেনদেন কি যথাযথভাবে নথিভুক্ত হয়েছে?

✓ আমরা কি কর এবং মূসক ব্যবস্থা বুঝেছি?

✓ আমাদের কি বাস্তবসম্মত পরিবেশনা কৌশল রয়েছে?

✓ আমাদের কি স্থানীয় বিক্রয়োত্তর সেবা প্রদানের সক্ষমতা রয়েছে?

✓ আমরা কি বিপণন কৌশল তৈরি করেছি?

✓ আমাদের কি নির্ভরযোগ্য স্থানীয় ব্যবসায়িক সহায়তা নেটওয়ার্ক রয়েছে?

 

যদি এসব প্রশ্নের বেশ কয়েকটির উত্তর “না” হয়, তাহলে বড় ধরনের আর্থিক প্রতিশ্রুতি দেওয়ার আগে কোম্পানিটির আরও প্রস্তুতি নেওয়া উচিত।

 

শেষ কথা

বাংলাদেশে ব্যবসা বিদেশি কোম্পানি ও বিনিয়োগকারীদের জন্য উল্লেখযোগ্য সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে, তবে সাফল্য নির্ভর করবে যথাযথ প্রস্তুতি, আইন ও বিধিবিধান মেনে চলা, স্থানীয় বাজার সম্পর্কে জ্ঞান এবং নির্ভরযোগ্য অংশীদার নির্বাচনের ওপর। বাংলাদেশকে শুধু কম খরচের একটি বাজার হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। বরং উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি, পরিবেশনা, পণ্য সংগ্রহ, প্রযুক্তি, অবকাঠামো, সেবা এবং বিনিয়োগে সুযোগসমৃদ্ধ দক্ষিণ এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনীতি হিসেবে মূল্যায়ন করা উচিত।

 

সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি হলো একটি সুসংগঠিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা: বাজার গবেষণা করুন। সুযোগ যাচাই করুন। সঠিক বাজার-প্রবেশ কাঠামো নির্বাচন করুন। যোগ্য অংশীদার চিহ্নিত করুন। যথাযথ যাচাই সম্পন্ন করুন। কর ও বিধিবিধান বুঝুন। বিনিয়োগ সুরক্ষিত করুন। স্থানীয় ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তুলুন। তারপর ধাপে ধাপে ব্যবসা সম্প্রসারণ করুন।

 

বিদেশি কোম্পানিগুলোকে এই পুরো প্রক্রিয়া একা পরিচালনা করতে হবে এমন নয়। Trade & Investment Bangladesh (T&IB) বাংলাদেশে ব্যবসায়িক সুযোগ অনুসন্ধান, বাজারে প্রবেশ এবং ব্যবসা সম্প্রসারণে আগ্রহী আন্তর্জাতিক কোম্পানির স্থানীয় ব্যবসায়িক সহায়তা ও বাজার-প্রবেশ অংশীদার হিসেবে কাজ করতে পারে। বাজার গবেষণা, ব্যবসায়িক মেন্টরশিপ, ক্রেতা-বিক্রেতা সংযোগ, আমদানিকারক ও পরিবেশক নিয়োগ, বাণিজ্যিক যথাযথ যাচাই, বিনিয়োগ প্রচার, ব্যবসায়িক বৈঠক, প্রদর্শনী এবং ব্যবসা প্রচার সেবার মাধ্যমে T&IB আন্তর্জাতিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং বাংলাদেশের বাজারের মধ্যে কার্যকর সংযোগ স্থাপনে সহায়তা করে।

 

যেসব বিদেশি কোম্পানি জানতে চায় “আমরা কীভাবে বাংলাদেশে ব্যবসা শুরু করতে পারি?” তাদের জন্য উত্তরটি শুধু কোম্পানি নিবন্ধনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সফল যাত্রা শুরু হয় সঠিক বাজার তথ্য, সঠিক কৌশল এবং সঠিক স্থানীয় ব্যবসায়িক সংযোগ দিয়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like these