বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের জন্য ব্রাজিলের আমদানি বিধিমালা

বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের জন্য ব্রাজিলের আমদানি বিধিমালা

ব্রাজিলের আমদানি নীতি, শুল্ক-অনুবর্তিতা, পণ্যের মান, ডকুমেন্টেশন ও বাজারে প্রবেশের পূর্ণাঙ্গ ধাপে ধাপে নির্দেশিকা

 

মো. জয়নাল আবদিন
ব্যবসা পরামর্শক | উদ্যোক্তা | আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ
প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট বাংলাদেশ (টিঅ্যান্ডআইবি)
মহাসচিব, ব্রাজিল বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিবিসিসিআই)

 

ব্রাজিল লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম অর্থনীতি ও বৃহৎ ভোক্তা বাজার। বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের জন্য দেশটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনাময় বাজার। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে তৈরি পোশাক, নিটওয়্যার, হোম টেক্সটাইল, চামড়া ও জুতা, পাট ও পাটজাত পণ্য, ওষুধ, সিরামিক, কৃষি-প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, হিমায়িত খাদ্য, প্লাস্টিক এবং হালকা প্রকৌশল পণ্যসহ বিভিন্ন খাতে প্রতিযোগিতামূলক উৎপাদন সক্ষমতা অর্জন করেছে। এসব পণ্যের অনেকগুলোরই ব্রাজিলে বাণিজ্যিক সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ব্রাজিলে সফলভাবে পণ্য রপ্তানি করার জন্য শুধু একজন ক্রেতা খুঁজে পাওয়া এবং পণ্য পাঠানোই যথেষ্ট নয়।

 

ব্রাজিলে অত্যন্ত কাঠামোবদ্ধ কাস্টমস, কর ও পণ্য-নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা রয়েছে। দেশটিতে প্রবেশকারী পণ্য শুল্ক শ্রেণিবিন্যাস, আমদানি শুল্ক, ফেডারেল ও রাজ্য কর, প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ, কারিগরি বিধিমালা, লেবেলিংয়ের শর্ত, স্বাস্থ্য ও স্যানিটারি নিয়ন্ত্রণ, সামঞ্জস্য যাচাই এবং পণ্যভিত্তিক অনুমোদনের আওতায় পড়তে পারে। এই কারণে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের জন্য কোনো অর্ডার গ্রহণের আগে ব্রাজিলের আমদানি বিধিমালা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা অত্যন্ত জরুরি।

 

যদি কোনো চালান ব্রাজিলের নিয়ন্ত্রক শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে সেটি কাস্টমসে আটকে যেতে পারে, অতিরিক্ত পরিদর্শনের সম্মুখীন হতে পারে, পুনরায় লেবেলিং প্রয়োজন হতে পারে, কাস্টমস নিয়ন্ত্রণে রাখা হতে পারে, ফেরত পাঠানো হতে পারে, অথবা গুরুতর ক্ষেত্রে প্রত্যাখ্যাতও হতে পারে। এই পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকায় বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের জন্য ব্রাজিলের আমদানি বিধিমালা, প্রধান নিয়ন্ত্রক সংস্থা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, পণ্যের মান, আমদানি অনুমোদন এবং ধাপে ধাপে বাজারে প্রবেশের কৌশল ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

 

১. একটি মৌলিক বিষয় বুঝুন: ব্রাজিলিয়ান আমদানিকারক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

সাধারণ বাণিজ্যিক লেনদেনে একজন বাংলাদেশি উৎপাদক নিজে ব্রাজিলে পণ্য কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স করেন না। সাধারণত ব্রাজিলের ক্রেতা, আমদানিকারক অথবা তার অনুমোদিত কাস্টমস প্রতিনিধি আমদানি কার্যক্রম পরিচালনা করে। তাই রপ্তানির আগে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের এমন একটি সঠিকভাবে প্রতিষ্ঠিত ব্রাজিলিয়ান আমদানিকারকের সঙ্গে কাজ করা উচিত, যে ব্রাজিলের কাস্টমস ও নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়া পরিচালনা করতে সক্ষম।

 

ব্রাজিলের আমদানি ব্যবস্থা ইলেকট্রনিকভাবে পরিচালিত হয় Siscomex এবং Portal Único de Comércio Exterior ব্যবস্থার মাধ্যমে। এগুলো ব্রাজিলের সমন্বিত বৈদেশিক বাণিজ্য ব্যবস্থা। ব্রাজিল সরকার ধীরে ধীরে আমদানি প্রক্রিয়াকে DUIMP (Declaração Única de Importação), অর্থাৎ একক আমদানি ঘোষণা ব্যবস্থায় স্থানান্তর করছে। এটি ব্রাজিলের নতুন আমদানি প্রক্রিয়ার অংশ।

 

বর্তমানে রূপান্তর চলমান থাকায় বিভিন্ন ধরনের আমদানি পদ্ধতি ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে কোনো নির্দিষ্ট চালানের ক্ষেত্রে কোন প্রক্রিয়া প্রযোজ্য হবে তা রপ্তানির আগে ব্রাজিলিয়ান আমদানিকারককে নিশ্চিত করতে হবে।

 

ব্রাজিলের সরকারি নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে নির্দিষ্ট NCM কোড এবং লেনদেনের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ যাচাই করতে হবে। বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের জন্য মূল শিক্ষা হলো:

শুধু ক্রয়াদেশ পাওয়া গেছে বলেই পণ্য পাঠানো উচিত নয়। প্রথমে ব্রাজিলিয়ান আমদানিকারকের কাছ থেকে নিশ্চিত হতে হবে যে পণ্যটি আইনগতভাবে আমদানিযোগ্য এবং চালানের আগে প্রয়োজনীয় সব নিয়ন্ত্রক শর্ত পূরণ হয়েছে।

 

২. সঠিক NCM শ্রেণিবিন্যাস নির্ধারণ করুন

ব্রাজিলের আমদানি প্রক্রিয়ায় প্রথম কারিগরি ধাপগুলোর একটি হলো সঠিক শুল্ক শ্রেণিবিন্যাস নির্ধারণ করা। ব্রাজিলে ব্যবহৃত হয়: NCM – Nomenclatura Comum do Mercosul অর্থাৎ মারকোসুরের অভিন্ন পণ্য শ্রেণিবিন্যাস ব্যবস্থা। NCM আন্তর্জাতিক হারমোনাইজড সিস্টেম বা HS কোডের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হলেও মারকোসুর অঞ্চলের জন্য এটি আট অঙ্কের কোডে বিস্তৃত।

 

NCM কোডের ওপর নির্ভর করে:

  • আমদানি শুল্ক;
  • নিয়ন্ত্রক শর্ত;
  • আমদানি লাইসেন্স;
  • প্রয়োজনীয় সনদ;
  • পণ্যের কারিগরি বৈশিষ্ট্য;
  • সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ;
  • করের ধরন;
  • পরিসংখ্যানগত শ্রেণিবিন্যাস;
  • সম্ভাব্য বিধিনিষেধ।

 

উদাহরণস্বরূপ, দুটি পোশাক দেখতে একই রকম হলেও তাদের NCM কোড ভিন্ন হতে পারে, যদি তাদের মধ্যে পার্থক্য থাকে:

  • নিটেড না ওভেন;
  • তন্তুর গঠন;
  • পুরুষ, নারী বা শিশুদের জন্য কিনা;
  • পণ্যের ধরন;
  • ব্যবহার;
  • অন্যান্য কারিগরি বৈশিষ্ট্য।

 

একইভাবে, জুতার শ্রেণিবিন্যাস নির্ভর করতে পারে:

  • জুতার ওপরের অংশের উপাদান;
  • সোলের উপাদান;
  • নির্মাণপ্রণালী;
  • ব্যবহারকারীর ধরন।

 

বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের করণীয় চূড়ান্ত মূল্য দেওয়ার আগে:

১. বাংলাদেশে ব্যবহৃত সম্ভাব্য HS কোড নির্ধারণ করুন।
২. ব্রাজিলিয়ান আমদানিকারককে সংশ্লিষ্ট ব্রাজিলিয়ান NCM নিশ্চিত করতে বলুন।
৩. বিস্তারিত পণ্যের স্পেসিফিকেশন দিন।
৪. শুধু সাধারণ পণ্যের নামের ওপর নির্ভর করবেন না।
৫. ল্যান্ডেড কস্ট হিসাবের আগে শ্রেণিবিন্যাস নিশ্চিত করুন।

ভুল শ্রেণিবিন্যাস হলে ভুল শুল্ক, ভুল কর, লাইসেন্সিং সমস্যা অথবা কাস্টমস জরিমানা হতে পারে।

 

৩. পণ্য পাঠানোর আগে ব্রাজিলের Administrative Treatment যাচাই করুন

NCM নির্ধারণের পর ব্রাজিলিয়ান আমদানিকারকের উচিত পরীক্ষা করা: Tratamento Administrativo de Importação অর্থাৎ আমদানির প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে নির্ধারিত হয় পণ্যটি কোনো ব্রাজিলিয়ান নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন বা তদারকির আওতায় পড়ে কি না।

 

ব্রাজিলের Siscomex ব্যবস্থায় একটি Import Administrative Treatment Simulator রয়েছে, যার মাধ্যমে পণ্যের শ্রেণিবিন্যাস ও লেনদেনের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী প্রযোজ্য শর্ত যাচাই করা যায়।

পণ্যের ধরন অনুযায়ী ব্যবস্থা নির্দেশ করতে পারে:

  • কোনো বিশেষ নিয়ন্ত্রণ নেই;
  • আমদানি লাইসেন্স প্রয়োজন;
  • LPCO প্রয়োজন;
  • পণ্য নিবন্ধন;
  • সনদ;
  • পূর্বানুমোদন;
  • পরিদর্শন;
  • সামঞ্জস্য যাচাই;
  • অথবা এক বা একাধিক সংস্থার অনুমোদন।

 

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নীতি হলো: বাণিজ্যিক অর্ডারের উৎপাদন বা চালান শুরু করার আগেই ব্রাজিলের নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

 

৪. LI ও LPCO সম্পর্কে জানুন

ব্রাজিলের কিছু পণ্য আমদানির জন্য সরকারি অনুমোদন প্রয়োজন। ঐতিহাসিকভাবে অনেক পণ্যের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়েছে: LI – Licença de Importação অর্থাৎ আমদানি লাইসেন্স। এই লাইসেন্সের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত পণ্যের আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়।

 

এতে নিম্নোক্ত সংস্থা জড়িত থাকতে পারে:

  • Anvisa;
  • MAPA;
  • Inmetro;
  • অন্যান্য সরকারি সংস্থা।

 

ব্রাজিলের নতুন আমদানি প্রক্রিয়ায় ক্রমবর্ধমানভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে: LPCO – Licenças, Permissões, Certificados e Outros Documentos অর্থাৎ: লাইসেন্স, অনুমতি, সনদ অন্যান্য দলিল। প্রয়োজনীয়তা নির্ভর করে:

  • NCM;
  • পণ্যের বৈশিষ্ট্য;
  • ব্যবহার;
  • উৎপত্তি দেশ;
  • আমদানি ব্যবস্থা;
  • নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ।

 

কিছু LPCO চালানের আগেই অনুমোদন পেতে হয়। অন্যগুলোর প্রক্রিয়া আলাদা হতে পারে। সুতরাং প্রতিটি চালানের আগে Siscomex-এর মাধ্যমে প্রযোজ্য নিয়ম যাচাই করতে হবে। একটি চালানে লাইসেন্স না লাগলেও ভবিষ্যতের একই ধরনের চালানে একই নিয়ম থাকবে, এমন ধারণা করা উচিত নয়।

 

৫. ব্রাজিলের প্রধান নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো জানুন

বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের ব্রাজিলের প্রধান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলোর ভূমিকা জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। Receita Federal do Brasil – ব্রাজিলিয়ান ফেডারেল রেভিনিউ Receita Federal পরিচালনা করে:

  • কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স;
  • পণ্যের শ্রেণিবিন্যাস;
  • কাস্টমস মূল্যায়ন;
  • আমদানি শুল্ক;
  • কাস্টমস আইন প্রয়োগ।

 

এটি ব্রাজিলের প্রধান কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

 

SECEX / MDIC

Brazil’s Ministry of Development, Industry, Commerce and Services-এর অধীনে থাকা Foreign Trade Secretariat বা SECEX:

  • বৈদেশিক বাণিজ্য নীতি;
  • প্রশাসনিক আমদানি প্রক্রিয়া;
  • বাণিজ্য ব্যবস্থাপনা;
  • নিয়ন্ত্রক সমন্বয়

 

ইত্যাদি ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

 

ANVISA

Agência Nacional de Vigilância Sanitária – ANVISA হলো ব্রাজিলের প্রধান স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ANVISA নিয়ন্ত্রণ করতে পারে:

  • ওষুধ;
  • মেডিকেল ডিভাইস;
  • প্রসাধনী;
  • ব্যক্তিগত পরিচর্যা পণ্য;
  • স্যানিটারি পণ্য;
  • কিছু খাদ্যপণ্য;
  • কাঁচামাল;
  • স্বাস্থ্যসম্পর্কিত অন্যান্য পণ্য।

 

ANVISA-নিয়ন্ত্রিত পণ্যের ক্ষেত্রে প্রয়োজন হতে পারে:

  • পণ্য নিবন্ধন;
  • নোটিফিকেশন;
  • অনুমোদন;
  • স্যানিটারি নিয়ন্ত্রণ;
  • আমদানি অনুমতি।

 

বিশেষত বাংলাদেশি ওষুধ রপ্তানিকারকদের ব্রাজিলের বাজারে প্রবেশের আগে দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রক প্রস্তুতি নিতে হবে।

বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের জন্য ব্রাজিলের আমদানি বিধিমালা
বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের জন্য ব্রাজিলের আমদানি বিধিমালা

৬. কৃষি, উদ্ভিদ প্রাণীজ পণ্যের জন্য MAPA-এর শর্ত

ব্রাজিলের Ministry of Agriculture and Livestock – MAPA কৃষি ও প্রাণীজ পণ্যের একটি বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে। MAPA-এর আন্তর্জাতিক কৃষি নজরদারি ব্যবস্থা হলো:

 

Vigiagro

যা তদারকি করে:

  • বন্দর;
  • বিমানবন্দর;
  • স্থলসীমান্ত;
  • অন্যান্য অনুমোদিত কাস্টমস প্রবেশপথ।

 

বাংলাদেশ থেকে নিম্নোক্ত পণ্য রপ্তানিতে MAPA-এর শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে:

  • উদ্ভিদজাত পণ্য;
  • বীজ;
  • কৃষি উপকরণ;
  • প্রাণীজ খাদ্য;
  • মাছ ও সামুদ্রিক পণ্য;
  • পশুপণ্য;
  • পশুখাদ্য;
  • ভেটেরিনারি পণ্য;
  • নিয়ন্ত্রিত কৃষিপণ্য।

 

উদ্ভিদজাত পণ্যের ক্ষেত্রে কীটপতঙ্গ ও রোগঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে ফাইটোস্যানিটারি শর্ত আরোপ করা হয়।

 

পণ্য ও উৎপত্তি দেশের ওপর ভিত্তি করে ব্রাজিলে নির্দিষ্ট ফাইটোস্যানিটারি শর্ত থাকতে পারে।

প্রাণীজ পণ্যের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর। ব্রাজিলে প্রাণীজ পণ্য আমদানির আগে প্রয়োজন হতে পারে:

  • স্যানিটারি অনুমোদন;
  • রপ্তানিকারক দেশের পরিদর্শন ব্যবস্থা স্বীকৃতি;
  • উৎপাদন প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন;
  • সরকারি স্বাস্থ্যসনদ।

 

এই কারণে বাংলাদেশ থেকে:

  • চিংড়ি;
  • মাছ;
  • সামুদ্রিক খাদ্য;
  • অন্যান্য প্রাণীজ খাদ্য

 

রপ্তানির আগে বাজার প্রবেশের যোগ্যতা নিশ্চিত করা জরুরি।

 

৭. INMETRO-এর কারিগরি সামঞ্জস্য শর্ত

INMETRO – Instituto Nacional de Metrologia, Qualidade e Tecnologia ব্রাজিলে বিভিন্ন পণ্যের কারিগরি মান, মেট্রোলজি ও সামঞ্জস্য যাচাই পরিচালনা করে। পণ্যের ধরন ও NCM অনুযায়ী প্রয়োজন হতে পারে:

  • সামঞ্জস্য সনদ;
  • মান নিরীক্ষা;
  • আমদানি অনুমোদন;
  • LPCO;
  • পণ্যভিত্তিক নিয়ন্ত্রক শর্ত।

 

Inmetro-এর নির্দেশনা অনুযায়ী আমদানিকারকদের উচিত প্রথমে:

১. NCM নির্ধারণ করা;
২. Administrative Treatment যাচাই করা;
৩. Inmetro-এর নিয়ন্ত্রণ প্রযোজ্য কি না দেখা;
৪. প্রয়োজন অনুযায়ী LPCO বা অন্যান্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা।

 

যে পণ্যগুলোর ক্ষেত্রে কারিগরি সনদ বাধ্যতামূলক, সেসব পণ্য ব্রাজিলের বাজারের জন্য উৎপাদন করার আগে নিয়ন্ত্রক শর্ত নিশ্চিত করা উচিত।

 

৮. বাংলাদেশের তৈরি পোশাক টেক্সটাইল রপ্তানিকারকদের জন্য বিশেষ গুরুত্ব

তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল হলো ব্রাজিলে বাংলাদেশের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাতগুলোর একটি। কিন্তু ব্রাজিলে টেক্সটাইল লেবেলিংয়ের নিয়ম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। Inmetro-এর নিয়ম অনুযায়ী ব্রাজিলে বিক্রি হওয়া টেক্সটাইল পণ্যের লেবেলে সাধারণত উল্লেখ থাকতে হবে:

  • উৎপাদক, আমদানিকারক বা ব্র্যান্ড মালিকের নাম;
  • কর শনাক্তকরণ তথ্য;
  • উৎপত্তি দেশ;
  • ব্যবহৃত তন্তুর সাধারণ নাম;
  • তন্তুর শতকরা হার;
  • যত্ন ও পরিষ্কার নির্দেশনা;
  • সাইজ বা মাপ, যেখানে প্রযোজ্য।

 

এই তথ্যগুলো হতে হবে:

  • দৃশ্যমান;
  • স্থায়ী;
  • সঠিক;
  • এবং পর্তুগিজ ভাষায়

 

ব্রাজিলে টেক্সটাইল লেবেলিং ব্যবস্থা Inmetro Ordinance No. 118/2021 এবং সংশ্লিষ্ট Mercosur Technical Regulation-এর ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়।

 

শুধু টেক্সটাইল পণ্য হওয়ার কারণে সব আমদানিতে Inmetro non-automatic import licensing প্রয়োজন হয় না। তবে ব্রাজিলে বিক্রির জন্য পণ্যকে অবশ্যই প্রযোজ্য লেবেলিং বিধিমালা মানতে হবে।

 

উদাহরণ

শুধু: 100% Cotton – Made in Bangladesh লিখে পোশাক রপ্তানি করা যথেষ্ট নাও হতে পারে। ব্রাজিলের বাজারের জন্য আরও বিস্তারিত লেবেল প্রয়োজন হতে পারে, যেমন:

  • তন্তুর গঠন;
  • উৎপত্তি দেশ;
  • ব্রাজিলিয়ান আমদানিকারকের তথ্য;
  • ধোয়া ও যত্নের নির্দেশনা;
  • সাইজ।

 

সুতরাং বড় আকারে উৎপাদনের আগে ব্রাজিলিয়ান ক্রেতার কাছ থেকে চূড়ান্ত লেবেল ডিজাইন অনুমোদন করিয়ে নেওয়া উচিত।

 

৯. পর্তুগিজ ভাষায় লেবেলিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

ব্রাজিলের সরকারি ভাষা পর্তুগিজ। এই কারণে শুধু ইংরেজি ভাষার প্যাকেজিং ব্রাজিলের বাজারে সবসময় গ্রহণযোগ্য হবে, এমন ধারণা করা উচিত নয়। ANVISA নিয়ন্ত্রিত পণ্যের ক্ষেত্রে বিদেশি ভাষার লেবেল নিয়ে পণ্য সরাসরি ভোক্তার কাছে বিক্রি করা সাধারণত গ্রহণযোগ্য নয়। প্রয়োজন অনুযায়ী পণ্যের লেবেলে পর্তুগিজ ভাষায় প্রাসঙ্গিক তথ্য থাকতে হবে।

 

খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে লেবেলে সাধারণত উল্লেখ থাকতে পারে:

  • পণ্যের নাম;
  • উপাদান;
  • নিট পরিমাণ;
  • উৎপত্তি;
  • আমদানিকারকের তথ্য;
  • লট;
  • মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ;
  • প্রস্তুতির নির্দেশনা;
  • ব্যবহারের নির্দেশনা;
  • পুষ্টিগত তথ্য।

 

ব্রাজিলের খাদ্য লেবেলিং ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে front-of-pack nutrition labeling-ও প্রযোজ্য হতে পারে। অতএব বাংলাদেশি খাদ্য উৎপাদকদের উচিত ব্রাজিলের জন্য আলাদা লেবেল তৈরি করা।

বাংলাদেশের বাজারে ব্যবহৃত একই প্যাকেজিং সরাসরি ব্রাজিলে ব্যবহার করা উচিত নয়।

 

১০. পণ্য নিবন্ধনের প্রয়োজনীয়তা আগে যাচাই করুন

রপ্তানিকারকের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ভুলগুলোর একটি হলো এমন পণ্য পাঠানো যেটির জন্য ব্রাজিলে আগে নিবন্ধন প্রয়োজন। পণ্যের ধরন অনুযায়ী প্রয়োজন হতে পারে:

  • পণ্য নিবন্ধন;
  • উৎপাদক প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন;
  • উৎপাদন স্থাপনা অনুমোদন;
  • কারিগরি নথিপত্র;
  • পরীক্ষাগার প্রতিবেদন;
  • Good Manufacturing Practice-এর প্রমাণ;
  • ব্রাজিলিয়ান দায়িত্বশীল প্রতিনিধি;
  • সনদ;
  • স্বাস্থ্যসনদ;
  • পূর্বানুমোদন।

 

বিশেষত নিম্নোক্ত খাতে সতর্কতা জরুরি:

  • ওষুধ;
  • মেডিকেল ডিভাইস;
  • প্রসাধনী;
  • খাদ্য;
  • কৃষি ও প্রাণীজ পণ্য।

 

পণ্য নিবন্ধনকে কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সের পর সম্পন্ন করা যাবে, এমন ধারণা করা বিপজ্জনক।

অনেক ক্ষেত্রেই চালানের আগেই অনুমোদন সম্পন্ন করতে হয়।

বাংলাদেশে নির্ভরযোগ্য সরবরাহকারী কীভাবে খুঁজবেন?
বাংলাদেশে নির্ভরযোগ্য সরবরাহকারী কীভাবে খুঁজবেন?

১১. ব্রাজিলের আমদানি করব্যবস্থা বুঝুন

ব্রাজিলে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের কর প্রযোজ্য হতে পারে।

 

Import Duty – II

Imposto de Importação হলো আমদানি শুল্ক। আমদানি পণ্যের কাস্টমস মূল্যের ওপর প্রযোজ্য শুল্কহার নির্ধারিত হয় সংশ্লিষ্ট পণ্যের শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী।

 

IPI

Imposto sobre Produtos Industrializados হলো শিল্পজাত পণ্যের ওপর ফেডারেল কর।

আমদানি করা শিল্পজাত পণ্যের ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য হতে পারে।

 

PIS-Importação এবং COFINS-Importação

এগুলো আমদানি পণ্যের ওপর প্রযোজ্য ফেডারেল অবদান।

 

ICMS

ICMS হলো রাজ্য পর্যায়ের কর। এটির হার ও প্রয়োগ নির্ভর করতে পারে:

  • কোন রাজ্যে পণ্য প্রবেশ করছে;
  • কোথায় বিক্রি হচ্ছে;
  • পণ্যের ধরন;
  • লেনদেনের ধরন।

 

এছাড়াও থাকতে পারে:

  • বন্দর চার্জ;
  • কাস্টমস ব্রোকারেজ;
  • গুদাম চার্জ;
  • টার্মিনাল ফি;
  • আন্তর্জাতিক পরিবহন;
  • অভ্যন্তরীণ পরিবহন;
  • প্রশাসনিক খরচ।

সুতরাং:

 

FOB মূল্য এবং ব্রাজিলে Landed Cost এক জিনিস নয়।

বাংলাদেশি রপ্তানিকারক ও ব্রাজিলিয়ান আমদানিকারককে হিসাব করতে হবে:

পণ্যের মূল্য + পরিবহন + বীমা + শুল্ক + কর + বন্দর খরচ + কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স + অভ্যন্তরীণ পরিবহন + পরিবেশক মার্জিন।

 

শুধু এই হিসাবের পর বোঝা যাবে পণ্যটি ব্রাজিলের বাজারে মূল্যগতভাবে প্রতিযোগিতামূলক কি না।

 

১২. বাংলাদেশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে Mercosur-এর শুল্ক সুবিধা পায় না

বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের ধরে নেওয়া উচিত নয় যে তাদের পণ্য Mercosur সদস্যদেশগুলোর মতো শুল্ক সুবিধা পাবে। ব্রাজিল Mercosur-এর অভিন্ন শুল্ক কাঠামো অনুসরণ করে। কিছু দেশের সঙ্গে বিশেষ বাণিজ্য চুক্তি থাকলে উৎপত্তির নিয়ম পূরণ সাপেক্ষে শুল্ক সুবিধা পাওয়া যেতে পারে।

বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের উচিত ব্রাজিলিয়ান আমদানিকারকের মাধ্যমে নিশ্চিত করা:

  • সঠিক NCM;
  • বর্তমান শুল্কহার;
  • বাংলাদেশি উৎপত্তির জন্য প্রযোজ্য কর;
  • কোনো বিশেষ সুবিধা আছে কি না।

 

অনলাইনে পাওয়া সাধারণ শুল্কতথ্যের ওপর নির্ভর না করে প্রতিটি চালানের আগে বর্তমান হার যাচাই করা উচিত।

 

১৩. সম্পূর্ণ রপ্তানি ডকুমেন্টেশন প্রস্তুত করুন

পণ্যের ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় দলিল ভিন্ন হতে পারে। তবে সাধারণ বাণিজ্যিক চালানে সাধারণত নিম্নোক্ত কাগজপত্র থাকে।

 

Commercial Invoice

ইনভয়েসে উল্লেখ করা উচিত:

  • রপ্তানিকারকের নাম;
  • আমদানিকারকের নাম;
  • পণ্যের বিস্তারিত বিবরণ;
  • পরিমাণ;
  • ইউনিট মূল্য;
  • মোট মূল্য;
  • মুদ্রা;
  • উৎপত্তি দেশ;
  • Incoterm;
  • পরিশোধের শর্ত;
  • অন্যান্য বাণিজ্যিক তথ্য।

 

পণ্যের বিবরণ এমনভাবে লিখতে হবে যেন তা কাস্টমস শ্রেণিবিন্যাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।

 

Packing List

Packing List-এ থাকা উচিত:

  • প্যাকেজের সংখ্যা;
  • মোট ওজন;
  • নিট ওজন;
  • মাপ;
  • পণ্যের পরিমাণ;
  • প্যাকেজ মার্কিং;
  • কনটেইনারের তথ্য।

 

Bill of Lading বা Air Waybill

পরিবহন নথির তথ্য Commercial Invoice ও Packing List-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।

 

Certificate of Origin

যদি আমদানিকারক, ব্যাংক, সরকারি সংস্থা অথবা চুক্তিতে প্রয়োজন হয়, তাহলে যথাযথ Certificate of Origin প্রদান করতে হবে।

 

Inspection বা Test Certificate

পণ্য, মান, ক্রেতার শর্ত অথবা বিধিমালা অনুযায়ী পরীক্ষা বা পরিদর্শন সনদ দিতে হতে পারে।

 

Health, Sanitary বা Phytosanitary Certificate

খাদ্য, কৃষি ও প্রাণীজ পণ্যের ক্ষেত্রে ব্রাজিলের নিয়ম অনুযায়ী বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ থেকে উপযুক্ত সনদ প্রয়োজন হতে পারে।

 

Insurance Certificate

প্রযোজ্য Incoterm-এর ওপর নির্ভর করে বীমা সনদ প্রয়োজন হতে পারে।

 

পণ্যভিত্তিক নিয়ন্ত্রক দলিল

প্রয়োজন হতে পারে:

  • ল্যাবরেটরি রিপোর্ট;
  • সামঞ্জস্য সনদ;
  • GMP সনদ;
  • উপাদান স্পেসিফিকেশন;
  • কম্পোজিশন ডিক্লারেশন;
  • Technical Data Sheet;
  • Safety Information;
  • Registration Document;
  • Manufacturer Declaration;
  • Product Certificate।

 

সব কাগজপত্রের মধ্যে সামঞ্জস্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

Invoice, Packing List, Bill of Lading, Label ও Regulatory Documents-এর মধ্যে অমিল থাকলে কাস্টমস বিলম্ব হতে পারে।

 

১৪. Incoterms সতর্কতার সঙ্গে নির্বাচন করুন

Incoterms নির্ধারণ করে:

  • পরিবহন খরচ;
  • বীমা;
  • ডেলিভারি পয়েন্ট;
  • ঝুঁকি হস্তান্তর;
  • দায়িত্ব বণ্টন।

 

সাধারণ Incoterms হলো:

  • FOB;
  • CFR;
  • CIF;
  • FCA;
  • CPT;
  • CIP।

 

ব্রাজিলের DUIMP ব্যবস্থায় Incoterm তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ। নতুন বাংলাদেশি রপ্তানিকারকের ক্ষেত্রে অনেক সময়:

 

FOB Chattogram

অপারেশনালভাবে সহজ হতে পারে। কারণ ব্রাজিলিয়ান আমদানিকারক আন্তর্জাতিক পরিবহন ও গন্তব্যসংক্রান্ত প্রক্রিয়া পরিচালনা করতে পারে।

 

তবে চূড়ান্ত Incoterm ব্যবসায়িক প্রয়োজন অনুযায়ী নির্ধারণ করা উচিত।

 

১৫. এই ধাপে ধাপে রপ্তানি প্রক্রিয়া অনুসরণ করুন

ব্রাজিলের বাজারে প্রবেশের একটি কার্যকর প্রক্রিয়া হতে পারে:

 

ধাপ ১: বাজার গবেষণা করুন

জানুন:

  • ব্রাজিলে চাহিদা;
  • প্রতিযোগী;
  • মূল্য;
  • ডিস্ট্রিবিউশন চ্যানেল;
  • লক্ষ্য অঞ্চল;
  • ক্রেতার ধরন।

 

ধাপ ২: পণ্য নির্বাচন করুন

শুরুতেই খুব বড় ক্যাটালগ নিয়ে বাজারে প্রবেশের চেষ্টা করবেন না। প্রথমে আপনার সবচেয়ে শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক পণ্য নির্বাচন করুন।

 

ধাপ ৩: NCM নির্ধারণ করুন

ব্রাজিলিয়ান আমদানিকারক বা কাস্টমস বিশেষজ্ঞের সহায়তা নিন।

 

ধাপ ৪: শুল্ক ও কর যাচাই করুন

সম্ভাব্য Landed Cost হিসাব করুন।

 

ধাপ ৫: Administrative Treatment যাচাই করুন

জানুন:

  • Import License লাগবে কি না;
  • LPCO প্রয়োজন কি না;
  • অন্য কোনো অনুমোদন আছে কি না।

 

ধাপ ৬: সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ শনাক্ত করুন

পণ্যটি নিয়ন্ত্রিত কি না দেখুন:

  • Receita Federal;
  • Anvisa;
  • MAPA;
  • Vigiagro;
  • Inmetro;
  • অথবা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ দ্বারা।

 

ধাপ ৭: পণ্য নিবন্ধন ও সনদ যাচাই করুন

চালানের আগে যেসব নিবন্ধন বা অনুমোদন দরকার, সেগুলো সম্পন্ন করুন।

 

ধাপ ৮: ব্রাজিল-সম্মত লেবেল তৈরি করুন

প্রয়োজন অনুযায়ী পর্তুগিজ ভাষায় লেবেল প্রস্তুত করুন।

তৈরি পোশাকের ক্ষেত্রে Inmetro textile labeling requirements বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

 

ধাপ ৯: নির্ভরযোগ্য আমদানিকারক বা পরিবেশক নির্বাচন করুন

যাচাই করুন:

  • CNPJ;
  • ব্যবসার ইতিহাস;
  • সংশ্লিষ্ট পণ্যে অভিজ্ঞতা;
  • ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক;
  • আর্থিক সক্ষমতা;
  • আমদানি ব্যবস্থাপনার দক্ষতা।

 

ধাপ ১০: নমুনা পাঠান

নমুনা পাঠানোর মাধ্যমে যাচাই করা যায়:

  • গুণমান;
  • প্যাকেজিং;
  • কারিগরি স্পেসিফিকেশন;
  • বাজারে গ্রহণযোগ্যতা।

 

তবে মনে রাখতে হবে, কিছু পণ্যের নমুনাও ব্রাজিলের নিয়ন্ত্রক বিধির আওতায় পড়তে পারে।

 

ধাপ ১১: বাণিজ্যিক চুক্তি করুন

চুক্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করুন:

  • পণ্যের স্পেসিফিকেশন;
  • MOQ;
  • মূল্য;
  • Incoterm;
  • পেমেন্ট;
  • ডেলিভারি;
  • Inspection;
  • Claim Procedure;
  • Regulatory Responsibility।

 

ধাপ ১২: আমদানিকারকের কাছ থেকে লিখিত Pre-Shipment Clearance নিন

Commercial Shipment পাঠানোর আগে আমদানিকারককে নিশ্চিত করতে বলুন যে:

  • লাইসেন্স সম্পন্ন;
  • প্রয়োজনীয় অনুমোদন হয়েছে;
  • লেবেল অনুমোদিত;
  • নিয়ন্ত্রক শর্ত পূরণ হয়েছে।

 

ধাপ ১৩: সব কাগজপত্র প্রস্তুত করুন

সব বাণিজ্যিক ও নিয়ন্ত্রক দলিলের তথ্য মিলিয়ে দেখুন।

 

ধাপ ১৪: পণ্য পাঠান

Shipping Line, Freight Forwarder ও Importer-এর সঙ্গে সমন্বয় করুন।

 

ধাপ ১৫: ব্রাজিলিয়ান আমদানিকারক Customs Clearance সম্পন্ন করবে

আমদানিকারক প্রয়োজনীয় Import Declaration ও Regulatory Information ব্রাজিলের প্রাসঙ্গিক ব্যবস্থায় জমা দেবে।

 

ধাপ ১৬: Customs এবং Regulatory Inspection

পণ্য:

  • ডকুমেন্টারি পরিদর্শন;
  • Physical Inspection;
  • Regulatory Review

 

এর আওতায় পড়তে পারে।

 

ধাপ ১৭: পণ্য মুক্ত হবে

শুল্ক, কর, কাস্টমস ও নিয়ন্ত্রক শর্ত পূরণ হলে পণ্য ব্রাজিলের বাজারে প্রবেশ করবে।

বাংলাদেশ থেকে ব্রাজিলে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি করবেন কীভাবে?
বাংলাদেশ থেকে ব্রাজিলে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি করবেন কীভাবে?

১৬. বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্যের খাতভিত্তিক বিষয়

তৈরি পোশাক

বিশেষভাবে খেয়াল রাখুন:

  • সঠিক NCM;
  • পর্তুগিজ লেবেলিং;
  • তন্তুর গঠন;
  • উৎপত্তি দেশ;
  • যত্ন নির্দেশনা;
  • সাইজ;
  • আমদানিকারকের তথ্য।

 

এই খাতে বাংলাদেশের ব্যাপক প্রতিযোগিতামূলক সম্ভাবনা রয়েছে।

 

হোম টেক্সটাইল

বেডশিট, তোয়ালে, পর্দা ও অন্যান্য হোম টেক্সটাইল পণ্যের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য টেক্সটাইল লেবেলিং বিধি অনুসরণ করতে হবে।

 

চামড়া ও জুতা

যাচাই করুন:

  • NCM;
  • ব্যবহৃত উপকরণ;
  • পণ্যের গঠন;
  • লেবেলিং;
  • কারিগরি শর্ত;
  • সামঞ্জস্য বিধি।

 

পাট ও পাটজাত পণ্য

পণ্যটি কোন শ্রেণিতে পড়ে তা নির্ধারণ করুন:

  • Finished Consumer Product;
  • Packaging Material;
  • Textile Product;
  • Plant-Origin Product।

 

কারণ শ্রেণি অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণ ভিন্ন হতে পারে।

 

ওষুধ

এটি ব্রাজিলের সবচেয়ে নিয়ন্ত্রিত খাতগুলোর একটি। বাজারে প্রবেশের আগে ANVISA-এর অধীনে বিস্তৃত নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হতে পারে। বাংলাদেশি ওষুধ কোম্পানির জন্য ব্রাজিলে একজন দক্ষ Regulatory Partner অত্যন্ত সহায়ক হতে পারে।

 

প্রক্রিয়াজাত খাদ্য

যাচাই করুন:

  • Anvisa না MAPA-এর অধীনে পড়ে;
  • Product Registration;
  • Ingredients;
  • Additives;
  • Nutrition Label;
  • Allergen Declaration;
  • Portuguese Label;
  • Shelf Life;
  • Sanitary Requirements।

 

হিমায়িত খাদ্য ও সামুদ্রিক পণ্য

MAPA-এর অধীনে কঠোর স্যানিটারি নিয়ন্ত্রণ থাকতে পারে। প্রয়োজন হতে পারে:

  • Establishment Approval;
  • Official Health Certificate;
  • Market Access Eligibility।

 

বাণিজ্যিক অর্ডার গ্রহণের আগে যোগ্যতা নিশ্চিত করতে হবে।

 

সিরামিক, প্লাস্টিক ও প্রকৌশল পণ্য

নির্দিষ্ট NCM অনুযায়ী যাচাই করুন:

  • Inmetro Certification;
  • Technical Standard;
  • Conformity Requirement;
  • অন্য কোনো Regulatory Approval।

 

১৭. বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের সাধারণ ভুল

ব্রাজিলমুখী চালানে অনেক সমস্যাই এড়ানো সম্ভব, যদি নিচের ভুলগুলো না করা হয়:

১. NCM নিশ্চিত না করে পণ্য পাঠানো;
২. ধরে নেওয়া যে সবকিছু আমদানিকারক পরে ঠিক করবে;
৩. শুধু ইংরেজি লেবেল ব্যবহার করা;
৪. Inmetro-এর শর্ত উপেক্ষা করা;
৫. খাদ্য বা স্বাস্থ্যপণ্য অনুমোদন ছাড়া পাঠানো;
৬. ডকুমেন্টে অসামঞ্জস্য রাখা;
৭. বাংলাদেশের HS Code-কে সরাসরি ব্রাজিলের NCM ধরে নেওয়া;
৮. ব্রাজিলের কর না বুঝে মূল্য দেওয়া;
৯. অনভিজ্ঞ আমদানিকারকের সঙ্গে কাজ করা;
১০. লেবেল অনুমোদনের আগে বড় উৎপাদন শুরু করা;
১১. Pre-Shipment Licensing উপেক্ষা করা;
১২. Fibre বা Ingredient Declaration ভুল দেওয়া;
১৩. পুরোনো অনলাইন তথ্যের ওপর নির্ভর করা।

 

১৮. বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের জন্য ব্যবহারিক Compliance Checklist

পণ্য পাঠানোর আগে যাচাই করুন:

পণ্য শ্রেণিবিন্যাস

✓ ব্রাজিলিয়ান NCM নিশ্চিত

 

আমদানিকারক

✓ ব্রাজিলিয়ান আমদানিকারক শনাক্ত
✓ CNPJ যাচাই
✓ ব্যবসার বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই
✓ আমদানি সক্ষমতা নিশ্চিত

 

নিয়ন্ত্রক অবস্থা

✓ Administrative Treatment যাচাই
✓ LI/LPCO যাচাই
✓ Anvisa/MAPA/Inmetro শর্ত যাচাই
✓ প্রয়োজনীয় Product Registration সম্পন্ন

 

লেবেলিং

✓ পর্তুগিজ ভাষার প্রয়োজনীয়তা নিশ্চিত
✓ Country of Origin সঠিকভাবে উল্লেখ
✓ Importer Information যুক্ত
✓ Mandatory Information অন্তর্ভুক্ত

 

বাণিজ্যিক বিষয়

✓ Purchase Order পাওয়া
✓ Specification অনুমোদিত
✓ Incoterm নিশ্চিত
✓ Payment Terms নির্ধারিত
✓ Landed Cost বিশ্লেষণ করা

 

ডকুমেন্টেশন

✓ Commercial Invoice
✓ Packing List
✓ Transport Document
✓ Certificate of Origin, যেখানে প্রয়োজন
✓ Test বা Certification Documents
✓ Sanitary বা Phytosanitary Documents

 

লোডিংয়ের আগে

✓ Importer-এর Final Shipping Approval গ্রহণ।

এই Checklist সম্পন্ন না করে Commercial Shipment পাঠানো উচিত নয়।

 

১৯. নিয়ন্ত্রক প্রস্তুতি কীভাবে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা দেয়

অনেক রপ্তানিকারক নিয়ন্ত্রক বিধিকে শুধু প্রশাসনিক বোঝা মনে করেন। এটি ভুল ধারণা। Regulatory Readiness আসলে একটি বড় প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা হতে পারে। ধরা যাক, দুইজন বাংলাদেশি পোশাক রপ্তানিকারক একই ব্রাজিলিয়ান ক্রেতার কাছে প্রস্তাব দিলেন।

 

প্রথমজন বললেন:

“আপনার কী কী কাগজপত্র দরকার আমাদের জানান।”

 

দ্বিতীয়জন ইতোমধ্যে জানে:

  • Brazilian NCM;
  • Inmetro Textile Requirements;
  • Portuguese Care Labeling;
  • Country of Origin Marking;
  • Brazilian Size Requirements;
  • Incoterms;
  • Required Documents;
  • Import Landed Cost।

 

দ্বিতীয় রপ্তানিকারককে অনেক বেশি পেশাদার ও কম ঝুঁকিপূর্ণ মনে হবে। ব্রাজিলিয়ান ক্রেতারা সাধারণত এমন রপ্তানিকারকের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী, যারা International Sourcing সহজ করে।

 

২০. উপসংহার:  

বিস্তারিত আমদানি বিধিমালা থাকার কারণে ব্রাজিলকে কঠিন বাজার ভাবা উচিত নয়। বরং এটিকে দেখতে হবে: একটি বৃহৎ, উন্নত, সুসংগঠিত নিয়ন্ত্রিত বাজার হিসেবে, যেখানে সঠিক প্রস্তুতি ব্যবসায়িক সাফল্য তৈরি করতে পারে।

 

বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের জন্য কার্যকর সূত্র হলো:

পণ্য নির্বাচন → NCM শ্রেণিবিন্যাস → নিয়ন্ত্রক যাচাই → আমদানিকারক নির্বাচন → পণ্য অনুবর্তিতা → পর্তুগিজ লেবেলিং → বাণিজ্যিক চুক্তি → ডকুমেন্টেশন → চালান → Customs Clearance → Distribution

 

বাংলাদেশের রয়েছে শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক উৎপাদন সক্ষমতা।

 

বিশেষ করে:

  • তৈরি পোশাক;
  • টেক্সটাইল;
  • জুতা;
  • পাটপণ্য;
  • ওষুধ;
  • প্রক্রিয়াজাত খাদ্য;
  • সিরামিক;
  • অন্যান্য শিল্পপণ্য

 

ব্রাজিলের বাজারে সম্ভাবনাময়।

 

তবে সফল হবে মূলত সেইসব রপ্তানিকারক, যারা শুধু কম মূল্য নয়, বরং:

  • Regulatory Knowledge;
  • Product Compliance;
  • Accurate Documentation;
  • Professional Communication;
  • Reliable Brazilian Partner

 

নিশ্চিত করতে পারবে।

 

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো:

ব্রাজিলের আমদানি বিধিমালা পণ্য বন্দরে পৌঁছানোর পর নয়, বরং চালান বুকিংয়ের আগেই যাচাই করতে হবে।

 

কারণ ব্রাজিলের Administrative Treatment, NCM Classification এবং Product Regulation সময়ে সময়ে পরিবর্তিত হতে পারে। এই কারণে প্রত্যেক চালানের আগে ব্রাজিলিয়ান আমদানিকারক ও বাংলাদেশি রপ্তানিকারকের উচিত বর্তমান শর্ত যাচাই করা:

  • Portal Único Siscomex;
  • Receita Federal;
  • Anvisa;
  • MAPA;
  • Vigiagro;
  • Inmetro

 

এর সরকারি ব্যবস্থার মাধ্যমে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like these