- 19 Jan 2026
- Md. Joynal Abdin
- Knowledge Center, Research Articles
- Comments: 0
বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী একটি প্রতিষ্ঠানের রপ্তানি কৌশল
মোঃ জয়নাল আব্দীন
প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট বাংলাদেশ (T&IB)
নির্বাহী পরিচালক, অনলাইন ট্রেনিং একাডেমি (OTA)
মহাসচিব, ব্রাজিল–বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (BBCCI)
বাংলাদেশ একটি বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতামূলক রপ্তানি ভিত্তি গড়ে তুলেছে বিশেষ করে উৎপাদন খাতে এবং রপ্তানি আয় শিল্পোন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বৈদেশিক মুদ্রার স্থিতিশীলতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (EPB)–এর তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় ব্যবসায়িক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হিসাবে ২০২৪–২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট পণ্য রপ্তানি প্রায় ৪৮.২৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যেখানে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় ৮.৫৮%। একই সঙ্গে, তৈরি পোশাক (RMG) খাত এখনও বাংলাদেশের রপ্তানি ঝুড়িতে প্রাধান্য বিস্তার করে আছে—সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যার অংশ প্রায় মধ্য-৮০ শতাংশের কাছাকাছি, ফলে রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও মূল্য সংযোজন অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্য কৌশলগত অগ্রাধিকার হয়ে উঠেছে।
বিশ্ববাজারের দিক থেকে দেখলে, বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতি দিন দিন জটিল হচ্ছে: লজিস্টিকস ব্যাঘাত, কমপ্লায়েন্সের চাপ, ক্রেতা একীভূতকরণ এবং চাহিদার পরিবর্তনশীল চক্রের কারণে এখন রপ্তানিকারকদের শুধু দামের ভিত্তিতে নয়, বরং নির্ভরযোগ্যতা, ট্রেসেবিলিটি, টেকসই উৎপাদন এবং সময়ানুবর্তিতার ভিত্তিতেও প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (WTO)–এর বাণিজ্য পূর্বাভাসেও বৈশ্বিক বাণিজ্য প্রবৃদ্ধির অনিশ্চয়তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা সুযোগসন্ধানী বিক্রির পরিবর্তে সুপরিকল্পিত ও টেকসই রপ্তানি কৌশলের প্রয়োজনীয়তা আরও জোরালোভাবে তুলে ধরে।
এই নিবন্ধে ধাপে ধাপে ব্যাখ্যা করা হয়েছে কীভাবে বাংলাদেশের একটি রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠান রপ্তানি কৌশল নির্ধারণ করতে পারে, নতুন বাজার ও ক্রেতা খুঁজে পেতে পারে, পণ্য সঠিকভাবে অবস্থান নির্ধারণ করতে পারে, কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করতে পারে এবং প্রথম অর্ডারকে দীর্ঘমেয়াদি ক্রেতায় রূপান্তর করতে পারে এবং একই সঙ্গে Trade & Investment Bangladesh (T&IB)–এর রপ্তানি সহায়তা সেবাগুলোর কার্যকর ব্যবহার করতে পারে।
১) কেন রপ্তানি ব্যবসা গুরুত্বপূর্ণ
রপ্তানি শুধু “বিদেশে বিক্রি” নয়। একটি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের জন্য রপ্তানি ব্যবসা পাঁচটি কৌশলগত সুবিধা নিয়ে আসে।
প্রথমত, রপ্তানি বাজারের আকার বাড়ায়। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাজার বাড়লেও, অনেক পণ্যের ক্ষেত্রে মূল্য সংবেদনশীলতা ও তীব্র প্রতিযোগিতা রয়েছে। রপ্তানি প্রতিষ্ঠানকে উচ্চমূল্যের সেগমেন্ট ও বৈচিত্র্যময় ক্রেতার কাছে পৌঁছানোর সুযোগ দেয়।
দ্বিতীয়ত, রপ্তানি আয় সাধারণত আরও স্কেলযোগ্য। একবার কোনো বাজারে পণ্য গ্রহণযোগ্যতা পেলে এবং কমপ্লায়েন্স পথ তৈরি হলে, পুনরাবৃত্ত অর্ডার, নতুন SKU এবং আঞ্চলিক বিতরণের মাধ্যমে রপ্তানির পরিমাণ বৃদ্ধি করা যায়।
তৃতীয়ত, রপ্তানি সক্ষমতা উন্নয়নে ভূমিকা রাখে: মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, প্রক্রিয়াগত শৃঙ্খলা, ডকুমেন্টেশন দক্ষতা এবং পেশাদার গ্রাহকসেবা। এই উন্নয়নগুলো স্থানীয় বাজারেও প্রতিষ্ঠানের অবস্থানকে শক্তিশালী করে।
চতুর্থত, রপ্তানি বাজার বৈচিত্র্যের মাধ্যমে ঝুঁকি কমায়। একটি বাজারে মন্দা দেখা দিলে, অন্য বাজারে মনোযোগ সরিয়ে কর্মক্ষমতা স্থিতিশীল রাখা যায়।
পঞ্চমত, রপ্তানি ব্র্যান্ডের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ায়। যেসব প্রতিষ্ঠান নিয়মিত রপ্তানি, ক্রেতার রেফারেন্স এবং আন্তর্জাতিক কমপ্লায়েন্স প্রদর্শন করতে পারে, তারা অর্থায়ন, অংশীদারিত্ব ও যৌথ বিনিয়োগে আরও গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে।
২) কীভাবে নতুন রপ্তানি বাজার খুঁজবেন (সঠিক পদ্ধতিতে)
অনেক রপ্তানিকারক প্রথমেই প্রশ্ন করেন: “আমি কোন দেশে রপ্তানি করব?” কিন্তু আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো: “আমার পণ্য কোথায় সবচেয়ে বেশি সফল হতে পারে?” একটি কার্যকর বাজার অনুসন্ধান পদ্ধতি চাহিদার সংকেত, প্রতিযোগিতার বাস্তবতা ও বাজারে প্রবেশযোগ্যতার সমন্বয় ঘটায়।
ধাপ ১: আপনার “রপ্তানিযোগ্য পণ্যের সত্যতা” নির্ধারণ করুন
বাজার বাছাইয়ের আগে আপনার পণ্যকে আন্তর্জাতিক ক্রেতার ভাষায় উপস্থাপন করুন: প্রযুক্তিগত স্পেসিফিকেশন, উপাদান, মানদণ্ড, মাসিক উৎপাদন সক্ষমতা, লিড টাইম, প্যাকেজিং, শেলফ লাইফ (যদি প্রযোজ্য হয়), ওয়ারেন্টি শর্ত, বিক্রয়োত্তর সেবা সক্ষমতা এবং HS কোড। এতে বাজার নির্বাচন আবেগের ওপর নয়, বাস্তবতার ওপর ভিত্তি করে হবে।
ধাপ ২: অনুমান নয়, প্রমাণভিত্তিক বাজার স্ক্রিনিং করুন
একটি শক্তিশালী স্ক্রিনিং কাঠামোর মধ্যে থাকে:
- আপনার পণ্যের চাহিদা প্রবৃদ্ধি (আমদানির প্রবণতা, খুচরা বা শিল্প খাতের বৃদ্ধি),
- ক্রেতার কাঠামো (কয়েকজন বড় ক্রেতা না অনেক মধ্যম ক্রেতা; ডিস্ট্রিবিউটর-নির্ভর না সরাসরি সোর্সিং),
- প্রতিযোগিতার তীব্রতা (প্রধান সরবরাহকারী দেশ ও তাদের মূল্য মান অবস্থান),
- বাণিজ্য ব্যয় ও লিড টাইম (শিপিং রুট, বন্দর দক্ষতা, সংরক্ষণ চাহিদা),
- বাজারে প্রবেশের বাধা (স্ট্যান্ডার্ড, লেবেলিং, অনুমোদন, নিবন্ধন, পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা)।
ধাপ ৩: ১০টি “ইচ্ছাকৃত বাজার” নয়, ২–৩টি “ফোকাস মার্কেট” নির্ধারণ করুন
রপ্তানিতে সাফল্য আসে মনোযোগের মাধ্যমে যেখানে আপনি রেফারেন্স তৈরি করতে পারেন, তারপর বিস্তার ঘটাতে পারেন।
ধাপ ৪: বাজারে যাওয়ার পথ (Route-to-Market) নির্ধারণ করুন
প্রতিটি ফোকাস মার্কেটের জন্য ঠিক করুন আপনি কীভাবে বিক্রি করবেন:
- ব্র্যান্ড/রিটেইলারের কাছে সরাসরি,
- আমদানিকারক/ডিস্ট্রিবিউটর/হোলসেলার,
- এজেন্ট বা প্রতিনিধি,
- ই-কমার্স মার্কেটপ্লেস,
- শিল্প ক্রেতা বা B2B প্রোকিউরমেন্ট, অথবা
- যৌথ উদ্যোগ (Joint Venture) / লাইসেন্সিং।
আপনার ক্রেতার ধরনই নির্ধারণ করবে দরকষাকষির ধরন, ডকুমেন্টেশন ও সম্পর্ক ব্যবস্থাপনা।

৩) কীভাবে ক্রেতা পাবেন: একটি পুনরাবৃত্তিযোগ্য ক্রেতা-সংগ্রহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা
ক্রেতা খোঁজা এককালীন কাজ নয় এটি একটি সিস্টেম। সফল রপ্তানিকারকরা এটিকে একটি পাইপলাইনের মতো পরিচালনা করে, যেখানে দৈনিক কার্যক্রম, পরিমাপযোগ্য ধাপ ও ধারাবাহিক উন্নতি থাকে।
ধাপ ১: “ক্রেতা-প্রস্তুত” রপ্তানি প্রোফাইল তৈরি করুন
ক্রেতা শুধু পণ্য কেনে না; তারা সরবরাহকারীর নির্ভরযোগ্যতা কেনে। আপনার প্রোফাইলে থাকা উচিত: কোম্পানি পরিচিতি, কারখানার প্রোফাইল, মান ও কমপ্লায়েন্স ডকুমেন্ট, পণ্য ক্যাটালগ, প্যাকেজিং অপশন, উৎপাদন সক্ষমতা, রপ্তানি বাজার, রেফারেন্স ক্লায়েন্ট (যদি অনুমোদিত হয়) এবং স্পষ্ট যোগাযোগের তথ্য। পেশাদার ওয়েবসাইট ও ইমেইল ডোমেইন বিশ্বাসযোগ্যতা অনেক বাড়ায়।
ধাপ ২: একাধিক ক্রেতা অনুসন্ধান চ্যানেল ব্যবহার করুন (এবং ট্র্যাক করুন)
কার্যকর চ্যানেলের মধ্যে রয়েছে:
- B2B প্ল্যাটফর্ম ও যাচাইকৃত ডিরেক্টরি,
- ট্রেড ফেয়ার ও প্রদর্শনী,
- চেম্বার নেটওয়ার্ক ও বিজনেস কাউন্সিল,
- লিংকডইন প্রোসপেক্টিং ও শিল্পভিত্তিক গ্রুপ,
- দূতাবাস ও কমার্শিয়াল উইংয়ের পরিচিতি,
- আমদানিকারক সমিতি,
- রেফারাল পার্টনারশিপ (লজিস্টিকস প্রোভাইডার, টেস্টিং ল্যাব, কনসালট্যান্ট, বিদেশি এজেন্ট)।
জয়ের কৌশল হলো একটি চ্যানেল নয়, বরং একাধিক চ্যানেলের সমন্বয় এবং উৎসভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণ।
ধাপ ৩: প্রোসপেক্টিং বার্তা হতে হবে পণ্য ও ক্রেতা-নির্দিষ্ট
জেনেরিক ইমেইল ব্যর্থ হয়। প্রথম বার্তায় উল্লেখ করুন:
- ক্রেতার ক্যাটাগরি ও দেশের চাহিদা,
- ১–২টি প্রাসঙ্গিক SKU ও তাদের পার্থক্যসূচক বৈশিষ্ট্য,
- কমপ্লায়েন্স প্রস্তুতি (অথবা পরিকল্পনা ও সময়সূচি),
- একটি সহজ পরবর্তী ধাপ (স্যাম্পল, কল, কোটেশন, ট্রায়াল অর্ডার)।
ধাপ ৪: আগ্রহকে কাজে রূপান্তর করুন “স্যাম্পল + কোটেশন শৃঙ্খলা” দিয়ে
গতি গুরুত্বপূর্ণ। অনেক বাংলাদেশি রপ্তানিকারক দেরিতে উত্তর, অস্পষ্ট কোটেশন বা অপ্রফেশনাল স্যাম্পলের কারণে ক্রেতা হারায়। RFQ উত্তর, কোটেশন, প্রোফর্মা ইনভয়েস, প্যাকিং লিস্ট ও পণ্যের স্পেসিফিকেশন শিটের জন্য স্ট্যান্ডার্ড টেমপ্লেট তৈরি করুন।
৪) রপ্তানি বাজারে পণ্যের অবস্থান নির্ধারণ: ধাপে ধাপে
অবস্থান নির্ধারণ মানে কেন ক্রেতা আপনাকে বেছে নেবে, অন্য কাউকে নয়।
ধাপ ১: আপনার প্রতিযোগিতামূলক লেন নির্বাচন করুন
আপনার অবস্থান একটি প্রধান লেনের ওপর ভিত্তি করে হওয়া উচিত, যেমন:
- সেরা ভ্যালু (প্রতিযোগিতামূলক দামে মান),
- গতি ও নির্ভরযোগ্যতা (লিড টাইম সুবিধা),
- কমপ্লায়েন্স ও টেকসই উৎপাদন (অডিট-রেডি সরবরাহকারী),
- কাস্টমাইজেশন (ছোট MOQ, নমনীয় স্পেসিফিকেশন),
- উদ্ভাবন ও ডিজাইন (নতুনত্ব, পারফরম্যান্স ফিচার)।
সব লেন দাবি করলে বিশ্বাসযোগ্যতা দুর্বল হয়।
ধাপ ২: আপনার সুবিধাগুলো ক্রেতার ভাষায় অনুবাদ করুন
“উচ্চ মান” বলার পরিবর্তে উল্লেখ করুন: ডিফেক্ট রেট, টেস্টিং স্ট্যান্ডার্ড, সার্টিফিকেশন, টলারেন্স, উপাদানের গ্রেড বা পারফরম্যান্স বেঞ্চমার্ক। “দ্রুত ডেলিভারি”র বদলে উল্লেখ করুন লিড টাইম, সক্ষমতা ও শিপিং সময়সূচির নির্ভরযোগ্যতা।
ধাপ ৩: কৌশলগতভাবে রপ্তানি মূল্য নির্ধারণ করুন
রপ্তানি মূল্য শুধু “খরচ + মুনাফা” নয়। এতে থাকতে হবে: বাজারমূল্য প্রত্যাশা, প্রতিযোগীর মূল্য, লজিস্টিকস ব্যয় (Incoterms), পেমেন্ট টার্মস, শুল্ক (সাধারণত ক্রেতার দিক), কমপ্লায়েন্স ব্যয় ও মুদ্রা ঝুঁকি। শক্তিশালী রপ্তানিকারকরা FOB/CFR/CIF অপশন দ্রুত দিতে পারে এবং মার্জিন সুরক্ষিত রাখে।
ধাপ ৪: বাজার-নির্দিষ্ট অফার তৈরি করুন
সব বাজারের জন্য এক ক্যাটালগের চেয়ে বাজার-নির্দিষ্ট অফার বেশি কার্যকর। প্যাকেজিং, লেবেলিং, সাইজিং স্ট্যান্ডার্ড, ভাষা ও পণ্যের ভ্যারিয়েন্ট প্রয়োজন অনুযায়ী সামঞ্জস্য করুন।
৫) ক্রেতাকে স্থায়ী করা: প্রথম অর্ডার থেকে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক
অনেক রপ্তানিকারক প্রথম অর্ডার পায়; কম সংখ্যক স্থায়ী ক্রেতা তৈরি করতে পারে। স্থায়ী ক্রেতা গড়ে ওঠে অপারেশনাল বিশ্বাসের মাধ্যমে।
ধাপ ১: প্রথম অর্ডার নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করুন
প্রথম চালান আপনার অডিশন। সময়মতো শিপমেন্ট, স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী পণ্য, সঠিক ডকুমেন্টেশন ও প্রোঅ্যাকটিভ যোগাযোগ নিশ্চিত করুন। সমস্যা হলে আগেই জানান ও সমাধান দিন।
ধাপ ২: “পোস্ট-শিপমেন্ট ফলো-আপ”কে উন্নয়নের হাতিয়ার বানান
ডেলিভারির পর পদ্ধতিগতভাবে ফিডব্যাক নিন: পণ্যের পারফরম্যান্স, প্যাকেজিং, ক্ষতির হার, বাজার প্রতিক্রিয়া ও উন্নয়নের সুযোগ। এতে নতুন SKU ও পুনরাবৃত্ত অর্ডারের পথ খুলে যায়।
ধাপ ৩: শুধু ডিসকাউন্ট নয়, ধারাবাহিকতা দিন
স্থায়ী ক্রেতারা স্থিতিশীলতা চায়: মান, লিড টাইম, প্যাকেজিং ও সেবার ধারাবাহিকতা। ইতিহাসের ভিত্তিতে কৌশলগত সুবিধা দেওয়া যেতে পারে যেমন প্রায়োরিটি প্রোডাকশন স্লট, উন্নত পেমেন্ট টার্মস বা অঞ্চলভিত্তিক এক্সক্লুসিভিটি (যৌক্তিক হলে)।
ধাপ ৪: নৈতিকভাবে “সুইচিং কস্ট” তৈরি করুন
কাস্টমাইজড প্যাকেজিং, ক্রেতা-নির্দিষ্ট পণ্য উন্নয়ন, যৌথ ফোরকাস্টিং ও কো-মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে ক্রেতার পরিকল্পনায় আপনি যুক্ত হয়ে পড়লে, আপনাকে বদলানো কঠিন হয়।

৬) রপ্তানি বাজারে কমপ্লায়েন্স: বিধিমালা, মান ও সার্টিফিকেট
কমপ্লায়েন্স রপ্তানি কৌশলের অন্যতম স্তম্ভ। এটি শিপমেন্ট বাতিল, আইনি ঝুঁকি ও সুনামহানির আশঙ্কা কমায়।
ধাপ ১: বাজারভিত্তিক নিয়ন্ত্রক প্রয়োজনীয়তা আগেই চিহ্নিত করুন
দেশ ও পণ্যের ধরনভেদে কমপ্লায়েন্স ভিন্ন হয়। লেবেলিং, উপাদান সীমা, নিরাপত্তা মান, প্যাকেজিং ও রিসাইক্লিং নিয়ম, ডকুমেন্টেশন ফরম্যাট ও নিবন্ধন প্রয়োজনীয়তা যাচাই করুন।
ধাপ ২: আপনার পণ্যের জন্য একটি “কমপ্লায়েন্স ম্যাট্রিক্স” তৈরি করুন
এতে থাকবে: প্রয়োজনীয়তা, মানের রেফারেন্স, টেস্ট মেথড, দরকারি সার্টিফিকেট, ইস্যুকারী সংস্থা, নবায়ন সময় ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি।
ধাপ ৩: সাধারণ সার্টিফিকেট প্রয়োজনীয়তা (পণ্য/বাজারভেদে ভিন্ন)
পণ্যের ধরন অনুযায়ী লাগতে পারে:
- কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট সার্টিফিকেশন,
- খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা,
- স্বীকৃত ল্যাবের টেস্ট রিপোর্ট,
- সামাজিক ও পরিবেশগত অডিট,
- উৎস ও শিপমেন্ট ডকুমেন্ট (Certificate of Origin, Commercial Invoice, Packing List, Bill of Lading/Airway Bill),
- খাতভিত্তিক বিশেষ সার্টিফিকেট।
ধাপ ৪: কমপ্লায়েন্সকে বিনিয়োগ হিসেবে দেখুন
কমপ্লায়েন্স ঝুঁকি কমায়, গ্রহণযোগ্যতা বাড়ায় এবং ভালো ক্রেতার দরজা খুলে দেয়।
৭) কীভাবে একটি বাংলাদেশি রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠানের রপ্তানি কৌশল নির্ধারণ করবেন
একটি রপ্তানি কৌশল ছয়টি মূল প্রশ্নের উত্তর দেয়।
১) আমরা কী রপ্তানি করব এবং আমাদের পার্থক্য কী?
২) কোথায় প্রথম রপ্তানি করব এবং কেন?
৩) আমাদের লক্ষ্য ক্রেতার প্রোফাইল কী?
৪) ধারাবাহিকভাবে কীভাবে ক্রেতা পাব?
৫) কী ধরনের অপারেশনাল ও কমপ্লায়েন্স উন্নয়ন দরকার?
৬) আর্থিক মডেল ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কী?
পরিমাপযোগ্য সূচক যুক্ত হলে কৌশল শক্তিশালী হয়।
৮) বাস্তবায়ন: কার্যকর এক্সিকিউশন রোডম্যাপ
কৌশল ডকুমেন্টে সীমাবদ্ধ থাকলে ব্যর্থ হয়।
ধাপ ১: রপ্তানি ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ুন
রপ্তানি বিক্রয়, ডকুমেন্টেশন, মান নিয়ন্ত্রণ, লজিস্টিকস ও ফাইন্যান্সে স্পষ্ট দায়িত্ব নির্ধারণ করুন।
ধাপ ২: রপ্তানি SOP তৈরি করুন
ইনকোয়ারি, RFQ, স্যাম্পলিং, মূল্য নির্ধারণ, অর্ডার কনফার্মেশন, শিপমেন্ট ও আফটার-সেলসের জন্য SOP প্রণয়ন করুন।
ধাপ ৩: ৯০ দিনের মার্কেট এন্ট্রি স্প্রিন্ট
- সপ্তাহ ১–২: প্রোফাইল, ক্যাটালগ, কমপ্লায়েন্স প্রস্তুত।
- সপ্তাহ ৩–৬: ক্রেতা তালিকা ও যোগাযোগ।
- সপ্তাহ ৭–১০: স্যাম্পল ও ট্রায়াল অর্ডার।
- সপ্তাহ ১১–১৩: প্রথম শিপমেন্ট ও ফিডব্যাক।
ধাপ ৪: পরিমাপ ও উন্নয়ন
যা কাজ করে তা ধরে রাখুন, যা করে না তা উন্নত করুন।
৯) Trade & Investment Bangladesh (T&IB)–এর রপ্তানি সহায়তা সেবা
রপ্তানি কৌশল বাস্তবায়নে Trade & Investment Bangladesh (T&IB) প্রদান করে:
- রপ্তানি বাজার গবেষণা,
- ক্রেতা সোর্সিং ও আউটরিচ,
- ডকুমেন্টেশন ও প্রক্রিয়া সহায়তা,
- পণ্য অবস্থান ও ব্র্যান্ডিং,
- কমপ্লায়েন্স প্রস্তুতি,
- দীর্ঘমেয়াদি বাজার সম্প্রসারণ পরামর্শ।
কাঠামোবদ্ধ কৌশলে আপনার রপ্তানি বাড়ান
আপনি যদি অনিয়মিত রপ্তানি থেকে স্থিতিশীল রপ্তানি প্রবাহে যেতে চান, তবে কৌশলগত পরিকল্পনা, কমপ্লায়েন্স উন্নয়ন ও শৃঙ্খলাবদ্ধ ক্রেতা সংগ্রহ অপরিহার্য। Trade & Investment Bangladesh (T&IB)–এর সাথে যোগাযোগ করুন:
- মোবাইল: +8801553676767
- ইমেইল: info@tradeandinvestmentbangladesh.com
- ওয়েবসাইট: https://com